ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ডিমান্ড অব জাস্টিস নোটিশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার সচিবসহ প্রজাতন্ত্রের সাত সচিবকে এই নোটিশ দেয়া হয়।
হিউম্যান রাইটস এন্ড পীস ফর বাংলাদেশের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ আইনজীবীর দেয়া ডিমান্ড অব জাস্টিস নোটিশে বলা হয়েছে, দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচনের বিধান চালু করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ চরিত্রকে খর্ব করা হয়েছে। এমনকি সংবিধানের ১১, ৪৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদের চেতনাকে ভুলন্ঠিত করা হয়েছে। কেননা ওই অনুচ্ছেদে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দেয়া এই নোটিশে চার সপ্তাহের মধ্যে দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচনের বিধান বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে এটি করতে ব্যর্থ হলে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) (সংশোধন) আইন, ২০১৫ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে।
সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের সচিব, আইন সচিব, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব ও আইন মন্ত্রণালয়ের ড্রাফটিং উইং এর সচিবকে ডাকযোগে এই নোটিশ দেয়া হয়েছে। পাঁচ আইনজীবীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ এই নোটিশ পাঠান।
নোটিশে বলা হয়েছে, স্বাধীনতার পর প্রণীত সংবিধানে স্থানীয় সরকারকে অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাখা হয় এবং সকল নির্বাচন সেই অনুসারে হয়েছে। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে গ্রাম আদালত গঠন করে বিচারের দায়িত্ব চেয়ারম্যানকে দেওয়া হয়েছে। নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার করার দায়িত্ব দেওয়া হলেও যিনি রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হবেন তার নিকট থেকে বিরোধীরা নিরপেক্ষ ও ন্যায়বিচার পাবেন না।
এতে আরো উল্লেখ করা হয়, কুদরত ইলাহি পনির বনাম বাংলাদেশ মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্থানীয় প্রশাসনকে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ সংশোধন করে চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীকে রাজনৈতিক মনোনয়নের বিধান সংযোজন করে ২০১৫ সালে আইনটি সংশোধন করে। যাতে স্থানীয় সরকারের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ চরিত্র খর্ব করা হয়েছে।
