পদোন্নতি নিয়ে প্রশাসনে কোন্দল মাথাচাড়া দিচ্ছে

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ০৯:২৩
 
প্রশাসনে পদোন্নতিকে ঘিরে আন্ত:ব্যাচ কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। ১৯৮৬ ব্যাচকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচনা না করাকে এই ব্যাচ এখন প্রকাশ্যেই দুষছে তাদের ঊর্ধ্বতন  ১৯৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তাদের। তবে ১৯৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি বোর্ড যদিও প্রশাসনের সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়নে ৮৬ ব্যাচকে পদোন্নতি দেয় তাতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। ৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব অতিরিক্ত সচিব মোশাররফ হোসেন বলেন, বর্তমানে ৮৬ পূর্ববর্তী ১৯৮২ থেকে ৮৫ ব্যাচ পর্যন্ত ৩৫১ জন অতিরিক্ত সচিব রয়েছেন। এরপরেও যদিও এ পদে কর্মকর্তার প্রয়োজন থাকে সেটি সরকার বিবেচনা করলে তাদের আপত্তি থাকার কথা নয়। তাছাড়া আলোচ্য ব্যাচের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অন্যান্য ব্যাচের বিশেষ করে ৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তাদের বয়স খুবই কাছাকাছি। 
 
এদিকে গতকালও ১৯৮৬ ব্যাচের শতাধিক কর্মকর্তা দলবেঁধে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) সভাপতি ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, অর্থ বিভাগের সচিব মাহবুব আহমেদ ও আইন বিচার মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ জহিরুল হক দুলালের দপ্তরে ধর্ণা দেন। তারা অতিরিক্ত সচিব পদে প্রয়োজনের থেকে বেশি সময়কাল কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তাদের পদোন্নতি বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ করেন। তারা ইতিপূর্বে কোন্ ব্যাচের কর্মকর্তারা কতদিন যুগ্ম সচিব পদে কাজ করার পর অতিরিক্ত সচিব হয়েছেন তারও ফিরিস্তি তুলে ধরেন। তারা বলেন, পদোন্নতির পর তারা বর্তমান পদে থেকেই কাজ করে যাবেন, নতুন কোনো পোস্টিং দাবি করবেন না। এসএসবির সভাপতি ও অপরাপর সদস্যরা তাদের বক্তব্য শুনেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে এসএসবির সভায় আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন বলে ৮৬ ব্যাচের কর্মকর্তাদের সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
 
৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা যখন ২০১৫ সালে অতিরিক্ত সচিব হন, তখন ২০১৪ সালের ৬ ফেরুয়ারি তাদের ঊর্ধ্বতন ব্যাচের অর্থাত্ ১৯৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তারা সচিব হয়েছেন। অর্থাত্ তারা অতিরিক্ত সচিব হওয়ার ৮ মাস আগেই তাদের উপরের ব্যাচ থেকে সচিব করা হয়। আর ৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তারা অতিরিক্ত সচিব হয়েছেন। অনেকেই উপসচিব, যুগ্ম সচিবও আছেন।
 
পক্ষান্তরে ৮৬ ব্যাচ থেকে বলা হচ্ছে, তিন দফায় ৮৫ ব্যাচ থেকে ১৯৭ জনকে অতিরিক্ত সচিব করা হয়েছে। এরমধ্যে একবার রিভিউ করার নামে নিয়মিতভাবে ৮৫ ব্যাচ থেকে অতিরিক্ত সচিব করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী প্রশাসনে ৮৫ ব্যাচকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। যদিও ৮৫ ব্যাচ এ দাবি নাকচ করেছে।
 
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী বলছেন, বিশেষ সুবিধা বলে প্রশাসনে কিছু নেই। যোগ্যতা, দক্ষতা ও প্রয়োজনীয়তা এবং প্রতিশ্রুতিই শেষ কথা। তিনি বলেন, দলাদলি করে কিছু হয় না। সরকার যেটি ভালো মনে করবে সেটিই হবে। তিনি বলেন, ৮৬ ব্যাচকে বিবেচনা করা হবে কী হবে না-সে রকম কোনো আলোচনাইতো নেই। এখন তারা কেন বিভিন্ন জায়গায় ধর্ণা দিচ্ছেন সেটি তাদের বিষয়। তবে দলবেঁধে এভাবে যাতায়াত বোধ করি সঠিক নয়। 
 
১৯৮৬ ব্যাচের কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে- এটি প্রচারমাত্র। প্রকৃতপক্ষে তাদেরকে বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে তারা জানতে পেরেছেন। তারা বলছেন, এই ব্যাচের কর্মকর্তারা ১৬ বছর ১০ মাস ২৫ দিন পর ২০০৬ সালের ১৬ অক্টোবর প্রথমবারের মতো উপসািচব পদে পদোন্নতি পান। যেখানে তা পাওয়া কথা ১০ বছরের মাথায়। আবার ৬ বছর ৯ মাস ৩ দিনের মাথায় ২০১৩ সালের ১৮ জুলাই তারা দ্বিতীয় পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম সচিব হয়েছেন। এ পদে তাদের চাকরিকাল এখন ৩ বছর ২ মাস ৬ দিন। এ পদ থেকে অতিরিক্ত সচিব হওয়ার জন্য দুই বছরের চাকরিকাল প্রয়োজন। যদিও অন্যান্য একাধিক ব্যাচের ক্ষেত্রে দেখা যায়, অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পেতে তারা মাত্র সময় নিয়েছেন ২ বছর ১০ মাস, ২ বছর ৫ মাস। শুধুমাত্র ১৯৮৩ সালের বিশেষ ব্যাচের অতিরিক্ত সচিব হওয়ার ক্ষেত্রে যুগ্ম সচিব পদে থাকতে হয়েছিল ৩ বছর ১০ মাস ২২ দিন।
 
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত সচিবের শূন্য পদ নেই এমন যুক্তি দেখিয়ে  ৮৬ ব্যাচকে পদোন্নতির বাইরে রাখার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কিন্তু পদোন্নতিযোগ্য শূন্য পদ প্রশাসনের কোনো স্তরেই নেই। বহু আগে সে রেকর্ড ভেঙে একেকটি স্তরে পদের দ্বিগুণ সংখ্যায় পদোন্নতির ঘটনা ঘটেছে।