তলবে হাইকোর্টে ইউএনও-ওসি, আদেশ ১৮ অক্টোবর

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৩:৪১
 
সংসদ সদস্যকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তথ্য প্রযুক্তি আইনে জিডি করার পরেও এক স্কুল শিক্ষার্থীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়ার ঘটনার বিষয়ে হাইকোর্টে পূর্ণাঙ্গ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ১৮ অক্টোবর এই বিষয়ে আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছে আদালত। এসময়ের মধ্যে ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা দিতে ঐ সংবাদপত্রকে বলা হয়েছে। এছাড়া স্কুলশিক্ষার্থী সাব্বির শিকদার হাইকোর্টে ঘটনার যে বর্ণনা দিয়েছেন তাও এফিডেভিট আকারে দাখিল করতে বলেছে আদালত। 
 
মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাশের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ উভয় পক্ষের বিস্তারিত শুনানি গ্রহণ করে আদেশের জন্য ঐ দিন ধার্য করে।
 
একটি ইংরেজি দৈনিকে ‘বয় জেলড ফর এফবি কমেন্ট অ্যাবাউট এমপি’ শীর্ষক শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সংসদ  সদস্যকে ফেসবুক আইডিতে হুমকি দেয়ার অভিযোগে সাব্বির শিকদারকে দুই বছরের কারাদন্ড দেয় আদালত।
 
ঐ প্রতিবেদনে আদালতে উপস্থাপন করলে টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুল আলমকে তলব করে হাইকোর্ট।
 
তলব আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সকাল ১১টায় আদালতে হাজির হন। এরপর তাদের পক্ষে আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম ও নুরুল ইসলাম সুজন শুনানি করেন।
শুনানিতে নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, ঐ ইংরেজি দৈনিকে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে তার থেকে ঘটনা ভিন্ন। ১০০ গ্রাম গাজাসহ ধরা পড়ায় ঐ স্কুল শিক্ষার্থীকে কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। কিন্তু ঐ প্রতিবেদনটিতে গাজার বিষয়টি উল্লেখই ছিল না। এছাড়া স্কুলশিক্ষার্থীকে নাবলক বলা হয়েছে সেটিও সত্য নয়।
 
শ ম রেজাউল করিম বলেন, প্রসিডিউরাল ভুল হতেই পারে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে ঘটনাস্থলেই ম্যাজিস্ট্রটকে বিচার শেষ করতে হয়। মোবাইল কোর্টের আদেশে ভুল হলে আপিল করার সুযোগ আছে।
 
আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, আমি কাউকে ডিফেন্ড করার জন্য আসিনি। একজন আইনজীবী ও নাগরিক হিসেবে পত্রিকার প্রতিবেদনটি আদালতের দৃষ্টিতে এনেছি।
তিনি বলেন, জাটকা নিধন প্রতিরোধে মোবাইল কোর্টের ভূমিকা রয়েছে। তাই বলে তারা যা খুশি তাই করতে পারে না। মোবাইল কোর্ট যথাযথভাব পরিচালনা করা হচ্ছে কি না এ বিষয়টি আদালতের দেখা উচিত। শুনানি শেষে আদালত উপরিউক্ত আদেশ দেয়।
 
গত ১৬ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের সংসদ সদস্য অনুপম শাজাহান জয় গত শুক্রবার রাতে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এতে বলা হয়, ফেসবুকে একটি আইডি থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই জিডির পরিপ্রেক্ষিতে সখিপুর থানার পুলিশ উপজেলার প্রতিমা বনিক পাবলিক হাইস্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাব্বির সিকদারকে আটক করে। শনিবার তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। কারাদণ্ডের পর সোমবার সকালে ওই কিশোরকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেন সখিপুরের ওসি মাকসুদুল আলম।
 
ইত্তেফাক/এএসএস