আজ ২৭ সেপ্টেম্বর 'বিশ্ব পর্যটন দিবস'। জনসাধারণের মধ্যে পর্যটন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিবছরের মত এ বছরও জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা UNWTO এর উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী এই দিনটিকে 'বিশ্ব পর্যটন দিবস' হিসেবে পালন করা হচ্ছে। এ বছর বিশ্ব পর্যটন দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে 'Tourism For All- Promoting Universal Accessibility' অর্থাৎ 'সকলের জন্য পর্যটন : সার্বজনীন পর্যটনের অভিগম্যতা'।
এবারের প্রতিপাদ্যে, পর্যটন কর্মকাণ্ডে নারী, পুরুষ, বয়স্ক, যুবা, শিশু, সচ্ছল, অসচ্ছল, প্রতিবন্ধী সকল শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে পর্যটন শিল্পের ভূমিকা এবং এই বিশাল কর্মকাণ্ডে সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার উপর বিশেষ তাগিদ দেয়া হয়েছে। পর্যটনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির মেলবন্ধন রচিত হয়। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিকশিত হয়। ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষ একে অপরকে জানতে চেষ্টা করে। পৃথিবীর রং রূপ, সৌন্দর্য উপভোগ করে। মানুষের এই মৌলিক অধিকারটি নিশ্চিত করার বিষয়ে এবারের প্রতিপাদ্যে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
প্রকৃতিগতভাবে মানুষ পর্যটনপ্রেমী। কিন্তু পৃথিবীর প্রায় ১৫% মানুষ কোন না কোন ধরণের প্রতিবন্ধকতার শিকার। শারীরিক অক্ষমতা, আর্থিক অস্বচ্ছলতা, বয়সজনিত সীমাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন কারণে সকলে ভ্রমণের সুযোগ পায় না। সুবিধা বঞ্চিত এই মানুষগুলোর নিকট পর্যটনকে পৌঁছে দিতে নীতি নির্ধারকসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বছর বিশ্ব পর্যটন দিবস বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ বাংলাদেশে ২০১৬ সাল 'পর্যটন বর্ষ' হিসেবে পালিত হচ্ছে। পর্যটন ক্ষেত্রে অপার সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণগুলোকে দেশ-বিদেশের সকল শ্রেণীর মানুষের নিকট তুলে ধরতে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করছে। ভ্রমণ, আবাসন ও বিনোদন ব্যয় সকল শ্রেণীর মানুষের সাধ্যের মধ্যে রাখার জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সাথে কাজ করছে। তরুণদের জন্য স্বল্প খরচে বিভিন্ন পর্যটন স্থানে অ্যাডভেঞ্চার ও স্পোর্টস ট্যুরিজম এবং বিনোদনের ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উত্সাহ প্রদান করা হচ্ছে। নারী, শিশু, বয়স্ক, এবং শারীরিকভাবে অক্ষম পর্যটকদের ভ্রমণ সহজসাধ্য করার জন্য বিমানবন্দর, বাস স্টেশন, রেল স্টেশন, শপিং মল ও হসপিটালসহ পর্যটন আকর্ষণীয় স্থানসমূহে পৃথক ওয়াকওয়ে, প্রবেশদ্বার, হুইলচেয়ারের ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় সুবিধাদি প্রদানের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
দিবসটি উপলক্ষে প্রকাশিত ক্রোড়পত্রে প্রদত্ত বাণীতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের টেকসই পর্যটন উন্নয়নের লক্ষ্যে সচ্ছল, অসচ্ছল, বয়স্ক, যুবা, শিশু ও প্রতিবন্ধী- সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষের জন্য পর্যটন সুবিধাদি সহজলভ্য ও সহজসাধ্য করার লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় বিভিন্ন সংবাদ ও 'বিউটিফুল বাংলাদেশ' শীর্ষক টিভিসি প্রচার এবং প্রিন্ট মিডিয়ায় বিশেষ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
ইত্তেফাক/আরএ
