ঢাকায় গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড জিয়া বাংলাদেশেই রয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতারকৃত ছয় জেএমবি জঙ্গিকে গ্রেফতারের পর এমন তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জিয়া রয়েছে ঢাকার আশপাশেই। এই তথ্য কতটা ঠিক তা জানতে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করবে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গ্রেফতারকৃত ৬ জঙ্গির মধ্যে আনোয়ার হোসেনের বাড়ি বাংলাদেশের জামালপুরে। তারও বাংলাদেশের পুলিশের খাতায় নাম রয়েছে বলে জানতে পেরেছে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ শাখা। ধৃত এই জঙ্গিদের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দফায় দফায় তাদের জেরা করছে ভারতের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা এনএইএ।
জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ ঘটনার মোস্ট ওয়ান্টেডরা যে গুলশানে হামলায়ও যুক্ত সে বিষয়ে ভারতীয় গোয়েন্দারা আগেই জানতে পেরেছিলেন। মেলেনি তাদের হদিস। জাল নোটের সূত্র ধরে ৬ জনের হদিস মিলেছে। বাকি রয়েছে আরো ৬ জন। তাদের ধরা গেলেই পশ্চিমবঙ্গের খাগড়াগড় থেকে ঢাকার গুলশানের জঙ্গি হামলার কোনো সূত্র অনেকটাই স্পষ্ট হতে পারে।
তদন্তে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যানে হামলা এবং পুলিশ খুন করে দুই শীর্ষ জঙ্গি সালাহউদ্দিন সালেহান ও জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজান ওরফে কাওসারসহ তিনজনকে ছিনিয়ে নিয়েছিল আনোয়ার ও তার দলবল।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গিরা কলকাতা পুলিশের এসটিএফের হেফাজতে থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের খাগড়াগড়-কাণ্ডের মূল মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখাতে যথাসময়ে আদালতে আর্জি জানানো হবে। খাগড়াগড় ঘটনার পর কিছুদিন চুপচাপ থাকলেও জঙ্গিরা যে ফের পশ্চিমবঙ্গে মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে তা স্পষ্ট।
ছয় জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ভারতের বারাক উপত্যকার করিমগঞ্জ, কাছাড় ও হাইলাকান্দি, পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের জেলা কোচবিহার, দক্ষিণবঙ্গের কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনায় নতুন ঘাঁটি গেড়েছিল জঙ্গিরা। ওইসব আস্তানায় নতুন করে জঙ্গি প্রশিক্ষণ এবং আইইডি তৈরির কাজও শুরু হয়েছিল।
গোয়েন্দাদের ধারণা, ধৃত ৬ জঙ্গিকে জেরা করে এ রাজ্যে নতুন করে জঙ্গি নেটওয়ার্ক, স্লিপার সেল ও মডিউল গড়ে তোলার বিষয়ে বিশদ জানা যাবে।
