স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষ বরাদ্দ বাতিল

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০১৬, ২৩:৫৫
দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথা ভেঙে স্থানীয় সরকার বিভাগ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বিশেষ বরাদ্দ বাতিল করে দিয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিব বিশেষ বরাদ্দ দিতে পারবেন না। স্বাভাবিক ভাবেই এমপিরাও এটা পাবেন না। কোটা পদ্ধতির পরিবর্তে এখন সকল জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ সমবন্টন নীতির ভিত্তিতে বরাদ্দ পাবে।
 
প্রসঙ্গত, প্রতিবছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি থেকে মন্ত্রীর জন্য ১০০ কোটি টাকা এবং সচিবের জন্য মোট বরাদ্দের দশ শতাংশ বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার নিয়ম প্রচলিত ছিল। এসব বরাদ্দের টাকা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছাড়াও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ নিয়ে ব্যয় করতে পারতেন। তবে মন্ত্রীর সংরক্ষিত তহবিলের টাকা মূলত এমপিদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হতো। আর এ সুযোগে দুর্নীতির পথ তৈরি হতো বলে মন্তব্য করেছেন স্বয়ং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।
 
জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, বিশেষ বরাদ্দের নামে এক ধরনের দুর্নীতি চলে। ঘুষ দিয়ে মন্ত্রী-এমপি’র ডিও লেটার নিয়ে যে কেউ ওই টাকা নিয়ে যায়। সে টাকার ব্যবহার সম্পর্কে সঠিক তথ্যও জানা যায় না। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতি বন্ধসহ সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ বরাদ্দ এবং সংরক্ষিত তহবিল বাতিল করা হয়েছে।
 
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যদি কোন বিশেষ এলাকার জন্য বিশেষ বরাদ্দের প্রয়োজন হয়, সে ক্ষেত্রে সরকার পরিকল্পনা কমিশনের মাধ্যমে বিশেষ প্রকল্প নিয়ে তার বিপরীতে অর্থ বরাদ্দ দিতে পারে। এরকম বরাদ্দ পেলেই কেবল বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সাধারণ বরাদ্দ থেকে টাকা কেটে নিয়ে তা বিশেষ বিশেষ অঞ্চলে দেওয়া সঙ্গত নয়।
 
জানা গেছে, চলতি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বরাদ্দের মোট দেড় হাজার কোটি  টাকার প্রথম কিস্তি তিনশ’ কোটি টাকা নতুন পদ্ধতিতে ভাগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার আয়তন, জনসংখ্যা, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় ও দারিদ্র্যের চিত্র বিশ্লেষণ করে এলাকাভিত্তিক ওই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
 
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আব্দুল মালেক বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মোট বরাদ্দের প্রথম কিস্তির অর্থ বিভাজন করা হয়েছে। প্রথম কিস্তিতে যাচ্ছে ৩০০ কোটি টাকারও বেশি। সংশ্লিষ্ট এলাকার আয়তন, জনসংখ্যা, দারিদ্র্যতা ও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় বিবেচনায় নিয়ে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
 
এ প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মন্ত্রীর উপলব্ধি ভাল। তবে দেখতে হবে বিশেষ বরাদ্দ বাতিল করার কারণে স্থানীয় কোন প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ঘাটতি যেন না পড়ে। তার বিশ্বাস মন্ত্রী নিশ্চয় এসব বিষয় মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মাথা ব্যথার কারণে মাথা কেটে ফেলা যাবে না মন্তব্য করে ড. জামান বলেন, প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে দরকার যথাযথ তদারকি। তা হলে আরও স্বচ্ছতার সঙ্গে সকল কাজ করা সম্ভব।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সচিবের সংরক্ষিত তহবিল থেকে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আবেদনের ভিত্তিতে মসজিদ-মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ-সংস্কারসহ হতদরিদ্র মানুষের আবাসন সংকট দূর করার কাজে এতদিন বরাদ্দ দেওয়া হতো। তবে এ বরাদ্দের অনেকটাই সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিজ নিজ গ্রামের এলাকার জন্য দেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
 
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশেষ বরাদ্দ প্রথা বাতিল হওয়ায় এখন সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ সরাসরি বরাদ্দ পাবে। বরাদ্দের অনুকূলে প্রকল্প গ্রহণ করবে এবং তা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে বাস্তবায়ন করবে। তবে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণকালে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে আইনে অবশ্য এমপিদের কোনো ভূমিকা রাখা হয়নি।
 
 

ইত্তেফাক/এএন