কোস্টগার্ড কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চিকিত্সককে অপহরণের অভিযোগ

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০১৬, ১৮:৩৬
 
রাজধানীর পল্লবীতে কোস্টগার্ডের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চিকিত্সককে অপহরণ করার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে পল্লবীর পূরবী সিনেমা হলের সামনে থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে ডা. রিয়াদ আহমেদ নাসের চৌধুরীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণের ঘটনায় অপহূতের ছোট ভাই মেধাদ নাসের চৌধুরী বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি অপহরণ মামলা করেছেন।
 
মেধাদ নাসের চৌধুরী বাবা বিএডিপির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ আহমেদ নাসের চৌধুরী। মামলায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ পাস করা ডা. লুনা আনিকার স্বামী কোস্টগার্ডে কর্মরত লে. কমান্ডার ফরহাদ সরকারকে আসামি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পল্লবী থানার ওসি দাদন ফকির বলেন, ঘটনাটি সত্য। ডা. রিয়াদ আহমেদ নাসের চৌধুরীকে অপহরণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পুলিশ তদন্ত করেছে। সেখান থেকে একটি সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজও পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই অপহরণের সঙ্গে ডা. লুনা আনিকার সাবেক স্বামী ফরহাদ সরকার জড়িত।
 
গত ২৯ সেপ্টেম্বর পল্লবী থানায় দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, রূপনগর আবাসিক এলাকার ৮ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাড়িতে তারা থাকেন। তার বড় ভাই ডা. রিয়াদ আহমেদ নাসের চৌধুরী পল্লবীতে ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালে কর্মরত। গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিকালে পল্লবীর পূরবী সিনেমা হলের সামনে থেকে সিলভার রঙের একটি মাইক্রোবাসে করে (ঢাকা মেট্রো-চ-৫৩-১৩৮২) কতিপয় ব্যক্তি তার ভাইকে অপহরণ করেন। এর আগে তার ভাইকে অজ্ঞাত ব্যক্তি প্রাণনাশের হুমকি দিলে গত ১০ জুলাই পল্লবী থানায় একটি জিডি করেন। ধারণা করা হচ্ছে ঐ হুমকিদাতার সঙ্গে অপহরণকারীর একটি যোগসূত্র থাকতে পারে।
 
মামলায় আরো বলা হয়, মিরপুর ডিওএইচএসের ৮ নম্বর রোডের ৪৯১ নম্বর বাসায় বসবাসকারী জনৈকা ডা. লুনা আনিকার (৩০) স্বামী লে. কমান্ডার ফরহাদ সরকারসহ অজ্ঞাতনামা কতিপয় ব্যক্তি এই অপহরণের সঙ্গে জড়িত।
 
অন্যদিকে, অপহূতের পারিবারিক সূত্র জানায়, লে. কমান্ডার ফরহাদ সরকারের স্ত্রী ডা. লুনা আক্তারের সঙ্গে ৩/৪ মাস আগে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। ফরহাদ সরকার মনে করতেন, লুনা ও রিয়াদের মধ্যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ পড়ার সময় প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর রিয়াদের সিদ্ধান্তেই লুনা তার স্বামী ফরহাদকে ছেড়ে দেন। অপরদিকে, ডা. রিয়াদের স্ত্রী ডা. তামান্না তাসলিমার সঙ্গে চলতি বছর জানুয়ারিতে ডিভোর্স হয়। ডা. তামান্না তাসলিমা বর্তমানে খুলনায় কর্মরত।
 
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এএসআই আবু সাঈদ জানান, রিয়াদকে যে গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, ঘটনাস্থলে থাকা সিসি ক্যামেরা থেকে তার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সিসি টিভির ফুটেজে দেখা যায়, রাস্তার পাশে একটি সিলভার রঙের মাইক্রোবাস দাঁড় করানো। একজন এসে গেট খুলছেন। আর ৩/৪ জন ব্যক্তি রিয়াদ নাসেরকে জোর করে গাড়ি তুলছেন। এরপর গাড়ি টান দিয়ে চলে যায়।
 
তদন্ত কর্মকর্তা ফুটেজ থেকে গাড়ির নম্বর সংগ্রহ করার পর সেটি নিয়ে বিআরটিএ’তে গিয়ে জানতে পারে, গাড়িটি প্রাইম ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে কেনা হয়েছে। দেনার দায়ে গাড়িটি এখন প্রাইম ব্যাংকের। পুলিশের কাছে প্রাইম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায় যে, মাইক্রোবাসটি এক বছর থেকে মানিকগঞ্জের ঘিওর থানা পুলিশ আটকে রেখেছে। থানার কাজে গাড়িটি ব্যবহার করা হচ্ছে। পুলিশ ঘিওর থানায় ফোন করে জানতে পারে, গাড়িটি এখন ওই থানাতেই বহাল তবিয়তে আছে।