বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ ভাগে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। আগামী বছর এই হার বজায় থাকতে পারে বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। বিশ্ব অর্থনীতির পূর্বাভাস প্রতিবেদনটি সম্প্রতি সংস্থাটি প্রকাশ করেছে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিরও পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। চলতি ২০১৬ ও ২০১৭ সালে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে আশংকা করা হয়েছে। সার্বিকভাবেই বিশ্ব অর্থনীতির গতি এবছর কম থাকবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিদায়ী অর্থবছর (২০১৫-১৬) সরকারি হিসেবে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক শুন্য ২ শতাংশ। এদিকে বিশ্ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি (২০১৬-১৭) অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমকি ৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে সর্বশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই হার ৬ দশমকি ৯ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
আইএমএফ এর প্রতিবেদনে এবছর বিশ্ব প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস করা হয়েছে ৩ দশমিক ১ ভাগ। তবে আগামী বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে কিছুটা উন্নতি হয়ে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত হওয়ার আশা করা হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণার (ব্রেক্সিট) ধাক্কা, উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর পরিস্থিতি, বেশিরভাগ বড় অর্থনীতির দেশগুলোর সুদ হার কমানো, চীনের অর্থনৈতিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে আইএমএফ এই নিম্ন প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, উদীয়মান বাজার আর উন্নয়নশীলদেশগুলোতে এখনও নিত্যপন্যের দাম কম। এজন্য তারা চ্যালেঞ্জে রয়েছে। চলতি বছর প্রত্যাশার চেয়ে ধীরে এগুচ্ছে মার্কিন অর্থনীতি। ব্রেক্সিটের ফলে যুক্তরাজ্যের আর্থিক বাজারেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। আইএমএফ এর পূর্বাভাস অনুযায়ী ভারতের অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে। বহিঃবাণিজ্য গতি বেড়েছে। প্রত্যাশার তুলনায় মূল্যস্ফীতি হারও কম রয়েছে। আশা করা হচ্ছে ৭ দশমিক ৬ হারে প্রবৃদ্ধি হবে ভারতের।
ইত্তেফাক/এমআই
