শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতার চাপাতির উপর্যুপরি হামলায় আহত খাদিজা আক্তার নার্গিস (২৩) এখন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে। চিকিৎসকরা বলছেন, তিনি জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছেন। হামলার ঘটনায় সিলেটসহ সারাদেশে ফুঁসে উঠছে শিক্ষার্থীরা।
গত সোমবার বিকালে পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় কলেজের মসজিদের পেছনে পুকুর পাড়ে কথিত প্রেমিক বদরুল ইসলাম নামের শাবি’র এক ছাত্র খাদিজার ওপর চাপাতি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। হমালাকারী যুবক বদরুল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক। খাদিজা তার প্রেমে সাড়া দেয়নি বলে এ নির্মম, পৈশাচিক হামলার ঘটনা।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় এমসি কলেজের সামনে হামলাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানবন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। এসময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কলেজ সংলগ্ন টিলাগড়ে সিলেট-তামাবিল সড়কে ২টি প্রাইভেট কারসহ ৭টি গাড়ি ভাঙচুর করে। বিকাল ৫ টায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী বদরুল আলমকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঘটনার তদন্তের তিন সদস্য বিশিষ্ঠ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর আগে দুপুরে এ ঘটনায় খাদিজার চাচা আব্দুল কুদ্দুস বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় একটি হত্যা চেস্টার মামলা করেছেন। মামলায় ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।
নির্মম এই ঘটনাটি সামিজিক যোগাযোগ ও ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় চলছে। পৈশাচিক এ বর্বর এঘটনায় অনেকেই এ ঘটনায় স্তম্ভিত। অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না। ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শিক্ষার্থীসহ সচেতন মহল। হামলার এমন দৃশ্য দেখে সহপাঠিরা কান্না থামাতে পারছেনা। এমন বর্বরের ঘটনার নায়ককের দ্রুত বিচার আইনে ফাঁসি দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার নার্গিসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুপুর আড়ইটার দিকে পরিবারের সম্মতি নিয়ে নার্গিসের অস্ত্রোপচার শুরু হয়। অস্ত্রোপচার শেষে বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। স্কয়ার হাসপাতালের মেডিসিন অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের কনসালটেন্ট এবং হাসপাতালের অ্যাসোসিয়েট মেডিক্যাল ডিরেক্টর ড. মির্জা নাজিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
অপরদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, কলেজছাত্রীর ওপর হামলাকারী যে দলেরই হোক তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংলাপে সাংবাদিকরা আসামির ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেখুন আমাদের প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে খুবই স্পষ্ট। তিনি কাউকে ছাড় দেন না। সরকারি দল হোক আর যে দলের হোক, যেই মতের লোক হোক, আমাদের যে পর্যায়ের লোক হোক। কাউকে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ছাড় দেন না, আপনারা লক্ষ্য করেছেন, দেখেছেন। তিনি বলেন, আমি আপনাদের জোর গলায় বলতে পারি, যেই অপরাধ করেছেন, সেই অপরাধীকে আমরা অবশ্যই বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।
সিলেট সরকারী মহিলা কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার নার্গিস। চলছিল দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা। তার পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল সরকারী মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজে। সোমবার বিকালে পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরবে এমন সময় কলেজের পুকুর পাড়ে কথিত প্রেমিক বদরুলের হামলার শিকার হন। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, চাপাতির তার মাথার মগজ বের হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা দ্রুত অস্ত্রোপচার করেন। ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আবদুস সালাম জানান, রাতে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (সদর দক্ষিণ) জেদান আল মুসা জানান, বদরুল আলমকে আটক করে থানায় নেয়া হয়েছে। তিনি এখন পুলিশ প্রহরায় ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ইত্তেফাক/এমআই
