বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি বলেছেন, 'এই বাংলায় বাঙ্গালীদের যে ইসলামী বোধ সেখানে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই।'
তিনি বলেন, 'পবিত্র কোরআন আর নবীজীর জীবনীর বাইরে মুসলমানদের আর কিছু জানার নেই। এই বাংলায় ইসলাম সে কথাই বলে। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে এই বিষয়ে সঠিক শিক্ষা দিতে হলে কোমলমতি শিশুদের মাধ্যমেই তা শুরু করতে হবে।'
ডা. দীপু মনি বুধবার সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৫২তম জন্মদিবস উদযাপন উপলক্ষে শিশু সমাবেশ বাস্তবায়নের প্রস্তুতিমূলক সভা'য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আগারগাঁওস্থ প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে ইফার মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রম ও ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয় যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
ধর্মের অপব্যবহার করেই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল মন্তব্য করে ডা. দীপু মনি বলেন, 'ইসলাম কোন সন্ত্রাস, হানাহানি ও অশান্তির বাণী দেয় না। আল্লাহ ও তার রাসূল সবসময় মানুষে মানুষে শান্তি, সম্প্রীতি, সৌহার্দ ও ভালবাসার কথা বলেছেন। ২০০৯ সালের পর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রমে প্রথম নারীদের সম্পৃক্ত করা হয়।' তিনি বলেন, 'এর আগে ধর্মশিক্ষার এত বড় একটি প্লাটফর্মে নারীদের সম্পৃক্ত করা হয়নি।'
বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৫২তম জন্মদিবসকে সামনে রেখে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সারা বাংলাদেশে শিশু সমাবেশ বাস্তবায়নের পরিকল্পনার প্রশংসা করে ডা. দীপু মনি বলেন, 'শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে আজ দেশবরেণ্য, শক্তিমান ও মেধাবী একজন নেতা হতে পারতেন। ঘাতকেরা বাংলাদেশের এই অর্জন আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে।'
তিনি বলেন, 'নিজের দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সঠিক শিক্ষা পেলেই শিশুরা ভবিষ্যতে বিশ্বমানব হয়ে উঠতে পারবে। আর সেই জন্য সবার আগে নিজেদেরকে মনে প্রাণে সম্পূর্ণ বাঙ্গালি হতে হবে।'
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল বলেন, নবীজী (সা:) মানুষকে কালেমা শেখাতে, মানুষকে সুন্দর মানুষ বানানোর জন্য দুনিয়াতে এসেছিলেন। জামায়াতে ইসলাম ইসলামের দাওয়াতের নামে কিছু মহিলা কর্মীদের দিয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের শিক্ষা ছড়িয়ে দিচ্ছে। শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা দানের পাশাপাশি এই বিষয়টিকে প্রতিহত করতেও মউশিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত নারীরা কাজ করে যাচ্ছে। প্রায় ১৬ হাজার নারী বর্তমানে ইফার এই কার্যক্রমের সাথে সংযুক্ত রয়েছে। -বাসস।
ইত্তেফাক/এসএস
