সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা বেগম এখন ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। একদিন আগেও খাদিজাকে আমরা জানতাম না, চেনার সুযোগও হয়ত ছিল না। কিন্তু আজ খাদিজা আমাদের সকলের, পুরো বাংলাদেশের আপনজন। সকলেরই একটাই প্রার্থনা- বেঁচে থাক খাদিজা।
কারণ খাদিজাকে বেঁচে থাকতে হবে তাঁর জন্য এবং বাংলাদেশের মঙ্গলময় পথযাত্রার জন্য। খাদিজা বেঁচে থাকতে হবে আরও সম্ভাব্য খাদিজাদের বাঁচাতে। কণিকা, রিসা, নিতুকে বাঁচানো যায়নি, খাদিজা বেঁচে যাক। ত্বকী, তনু, আফসানার হত্যাকারীদের মনে ভয় ধরাতে চাপাতি বদরুলের বিচার হোক। আর যাই হোক বদরুল যে মানুষ হতে পারেনি সেটা সবাই জেনে গেছেন।
ইতিমধ্যে সবাই জেনে গেছেন, বদরুল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক। ছাত্রলীগ হওয়ার কারণেই সম্ভবত দীর্ঘদিন ধরে খাদিজাকে উত্ত্যক্ত করে আসতে পেরেছিলেন তিনি। উত্ত্যক্তকারী বদরুলের চাপাতি বদরুল হয়ে ওঠার ইতিহাস আছে। ২০১২ সালের ১৭ জানুয়ারিতেও উত্ত্যক্ত করার সময় স্থানীয় ব্যক্তিরা বদরুলকে ধরে পিটুনি দেন। পরদিন বদরুল তাঁকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন জালালাবাদ থানায়। তারপরও ২০১২ সালের ৩১ মে ১৪ জনের নামে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তার মানে বদরুল নতুন কোন খারাপ কাজ করেনি। খারাপ কাজের মধ্যেই তার বেড়ে উঠা।
উত্ত্যক্তকারী বদরুলকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতৃত্বে না বসালে হয়তো চাপাতি বদরুলের জন্ম হতো না। বদরুল চাপাতি বদরুল হতে পেরেছেন কার অবদানে সেটা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। কোনো কোনো ঘটনার বিচার হয় সত্য। যেমন বিশ্বজিৎ হত্যাকারীদের হয়েছে। কারণ, পুরো দেশ সরব হয়ে উঠেছিল। যখন অপরাধী হয় ক্ষমতার সিঁড়ির নিচের দিকের লোক, তখন বিচারের আশা ধিকিধিকি জ্বলতে পারে। বিচারও হতে পারে।
এত এত অবিচার হয়েছে, তাতে অনেক অনেক বদরুল আশকারা পেয়েছে। এত বদরুল পয়দা হয়েছে, অনেক অনেক প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ ছাড়া তারা দমবে না। সেজন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নইলে চাপাতি হাতে বদরুলরা দৌড়াতে থাকবে। আর পড়ে থাকবে রক্তাক্ত খাদিজা নয়, রক্তাক্ত এক মানচিত্র।
