বঙ্গবন্ধু ও জেল হত্যা মামলার রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী কমোডর (অব.) গোলাম রাব্বানী হত্যা মামলার যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনের (কেইপিজেড) সাবেক মহাব্যবস্থাপক আবু নাসের চৌধুরী, সাবেক প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী ও মো. সেলিমকে আট সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।
বিচারিক আদালতে হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পৌঁছার পর তাদেরকে ওই সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে। সম্প্রতি হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের এই অনুলিপি প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া এই মামলার আসামি সাইফুল ইসলামের খালাসের রায় বাতিল করে দিয়ে পর্যবেক্ষণের আলোকে নতুন একটা রায় দিতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট।
২০০৪ সালের ১১ এপ্রিল চট্টগ্রাম কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনের (কেইপিজেড) তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম রাব্বানী গুলিবিদ্ধ হন। পরে ব্যাংককে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন কেইপিজেডের তৎকালীন সাইট ইঞ্জিনিয়ার একেএম ইমতাজুল ইসলাম।
কেইপিজেডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিয়োগ করা নিয়ে কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রব্বানীকে হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
২০০৫ সালের ৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার আদালতের রায়ে সেলিম, মো. হাশেম ও সোহেলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, আবু নাসের ও হুমায়ুনকে পাঁচ বছরের সাজা এবং সাইফুল ও মনছুর আলমকে খালাস দেওয়া হয়।
সাজার এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে বাদী পক্ষ। এছাড়া আসামিরাও আপিল দায়ের করেন। উভয় আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০১৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি উপরোক্ত রায় দেয়। রায়ে বলা হয়, নাসের ও হুমায়ুনকে দোষী সাব্যস্ত করে বিচারিক আদালত লঘু সাজা প্রদান করে ভুল করেছেন। মামলায় থাকা প্রমাণাদি, প্রকৃত অবস্থা, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমাদের এই মত যে, বিচারিক আদালতের সাজা বদলানো উচিত এবং তা বৃদ্ধি করা দরকার।
