বুকের মধ্যে কী যেন জানান দিয়ে যায়

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০১৬, ০৯:৪৫
 
নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, অমর সৃষ্টিসম্ভারে পরিপূর্ণ একজন স্বপ্নময় ও সৃষ্টিশীল মানুষ। সেই সঙ্গে নাট্য নির্দেশক ও একজন সফল অভিনেতা, কী মঞ্চে কী টিভি নাটকে কী চলচ্চিত্রে। জন্ম টাঙ্গাইলে। বাবার চাকরিসূত্রে বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁর মাটির টান শিরা-উপশিরায়। এই মানুষটি নিয়ত সৃষ্টির আনন্দে মেতে আছেন। সে যে বাংলা নাট্যের স্বপ্নপথিক। ডাকনাম আলো। সৃষ্টির আলো ছড়াতে ছড়াতে নিজেও যেমন আলোকিত হয়েছেন, তেমনি তাঁর আলোর কিরণোচ্ছটায় সৃষ্টির দুয়ারে আলো ঠিকরে পড়ে। সেই আলোতে স্নান করে আমরাও আলোকিত হই। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন পীযূষ সিকদার
 
আপনার জীবনের কষ্টটা কী?
দেশভাগ। দেশভাগের কয়েক মাস পরেই আমার জন্ম। আমি যখন বুঝতে শিখি, তখন থেকেই দেশভাগের যন্ত্রণা আমাকে আড়ষ্ট করেছে। এক এক করে অনেকেই চলে যাচ্ছিল। আমার ছায়াদি, অশোকাদি এমনকি আমার সহপাঠী অনিমাও চলে গেল। নীলমণি আর হিমাদ্রি শেখরের চলে যাওয়াটাও মানতে পারিনি। এদের দেশত্যাগ ওই সময়ে অনেককে অনেকভাবে ভাবাত! কিন্তু আমার যে তাদের ঘিরে স্মৃতি লেগে আছে। আর তাছাড়া একটি দেশ ভাগ হবে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে এটা আমি মেনে নিতে পারিনি।
 
আপনার নাটকে জীবনাচরণের মধ্য দিয়ে শ্রেণিসংগ্রামের কথা বলেন। এ নিয়ে কিছু বলেন—
আমি শ্রেণিসংগ্রামের কথা বলি অথবা শ্রেণিহীন সমাজের স্বপ্ন দেখি। স্বপ্নই তো একসময় বাস্তবে রূপ নেয়। পুঁজির চরম বিকাশেই আসবে সমাজতন্ত্র বা আমার ড্রিম শ্রেণিহীন সমাজ।
 
আপনি তো মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু বলুন—
মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি গর্বিত। একটি সেক্যুলার রাষ্ট্র একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গড়ার জন্য আমরা হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলাম। দেশ স্বাধীন হলো। আমি উঠে পড়ে লাগলাম থিয়েটারে। আবার বেদনা। আমরা রাষ্ট্র বানাতে পারিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা যখন জিতে গেলাম, স্বাধীন একটি রাষ্ট্র পেলাম, ঠিক সেই সময় আমার সহকর্মী বন্ধু ঠাকুর দাস আমাকে বলেছিল, বুকের মধ্যে কী যেন জানান দিয়ে যায়! তখন বুঝতে পারিনি ঠাকুর দাসের কথা, এখন বুঝি! ও এত এত আগে সেই বিজয় মুহূর্তে কীভাবে বুঝল, শত্রু মরে নাই! আমাদেরও মারবে! এ কথা ভাবলে অবাক লাগে।

 

 

 

দেশ নিয়ে আপনার স্বপ্ন কী?

 

আমরা যে সেক্যুলার ও ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র বানাতে চেয়েছিলাম সেটা হতে সময় লাগবে। মাঝে মাঝে যে নিঃসঙ্গবোধ করি না, তা কিন্তু না! আমাকে তাড়িত করে, পীড়িত করে। আমাদের দেশে ভিন্ন নৃ-গোষ্ঠী আছে, তারাও তো আমাদের! আসলে আমাদের ক্লাসিফিকেশন থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সময় তো কম গড়াল না, কখনই ফিল করিনি—হিন্দু কী... মুসলমান কী! এখন বুঝি নীলমণি কুচবিহারে কেন যায়? বাংলাদেশ একটি এক্সট্রিম সেক্যুলার রাষ্ট্র হতে পারত, সেই স্বপ্ন এখনো আমি বয়ে বেড়াই।

 

 

 

আপনার স্বপ্নের হিরো কে?

 

আমার স্কুলজীবনের শিক্ষক লতিফ মাস্টার।

 

 

 

সমকালীন নাটক নিয়ে কিছু বলেন—

 

আমাদের নাটকে ডিজাইন ডেভেলপ করেছে, কিন্তু কনটেন্টের জায়গায় আমরা আটকে আছি। বিষয় ভাবনাটা গুরুত্বপূর্ণ, এই সমকালীন সমাজ বাস্তবতায়। নতুনরা ভালো কাজ করছে। কিন্তু বিষয়ের দিকে আরও মনোযোগী হতে হবে।