পুঁজিবাজারে গত প্রায় তিন মাস ধরে গতিশীলতা ফিরে এসেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ধীরে ধীরে সার্বিক মূল্য সূচক ও লেনদেন বাড়ছে। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারের গতিশীলতাকে স্থিতিশীল করতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদেরকে মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দেয়া হয়েছে। গতকাল বিকেলে শীর্ষ ৫০ ব্রোকারের সঙ্গে এক বৈঠকে ডিএসইর পক্ষ থেকে এ তাগিদ দেয়া হয়।
এসব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিএসইর পরিচালক মো. রকিবুর রহমান ইত্তেফাক’কে বলেন, বর্তমানে বাজার গতিশীল হচ্ছে। এ গতিশীলতাকে কীভাবে স্থিতিশীল করা যায় এ নিয়ে শীর্ষ ব্রোকারদের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাবসিডিয়ারি সিকিউরিটিজ হাউসগুলো তাদের সীমার মধ্যে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ যেন করে সে ব্যাপারে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদেরকে দৈনিক লেনদেন বা ডে ট্রেডারের ভূমিকায় না থেকে মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। রকিবুর রহমান বলেন, বাজারে এখন কোন আস্থাহীনতা নেই, ইমেজ সংকট নেই। যদি আস্থাহীনতা ও ইমেজ সংকট থাকতো তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আসতো না। অথচ এখন প্রতি মাসেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিনিয়োগ করছেন। তাছাড়া ডিএসইর স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হতে বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহ প্রকাশ করছে, এটা বাজারের জন্য ইতিবাচক দিক।
বৈঠকে উপস্থিত শীর্ষ এক ব্রোকার জানান, বৈঠকে তারল্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ভালো কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার জন্য ডিএসইর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শীর্ষ ব্রোকাররা। কারণ বাজারে ভালো কোম্পানি আসলে এমনিতেই শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের চাহিদা বাড়বে। যা পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক হবে। এছাড়া বাজারে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ডিএসইকে কার্যকরী পদক্ষেপ রাখারও দাবি জানান শীর্ষ ব্রোকাররা।
এছাড়া বর্তমান বাজার প্রেক্ষাপটে নতুন শাখা অফিস চালু, নেটিং পদ্ধতি চালু, সচেতনতামূলক কর্মসূচী, বাজারের সংকটময় মূহুর্তের জন্য একটি ফান্ড গঠন, স্টক ব্রোকারদের নেতিবাচক মার্জিন ঋণ, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে শেয়ার লভ্যাংশের পরিবর্তে নগদ লভ্যাংশ প্রদানকে উত্সাহিত করার বিষয়ে দাবি জানান শীর্ষ ব্রোকাররা। সিডিবিএল এর চার্জ কমানো এবং সরকারের হাতে থাকা বিভিন্ন কোম্পানি ও বাংলাদেশে ব্যবসারত বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তিরও দাবী জানান তারা। এছাড়া লেনদেনের সময় ১৫ মিনিট বাড়ানোর দাবি ওঠে। সভায় উপস্থিত ছিলেন ডিএসই’র পরিচালক মো. রকিবুর রহমান, মো. শাকিল রিজভী, মোহাম্মদ শাহজাহান এবং ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে. এ. এম মাজেদুর রহমানসহ আরো অনেকে।
শীর্ষ ব্রোকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১০ সালে বাজার ধ্বসের পর থেকে দেশের শেয়ারবাজার খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। মাঝে মধ্যে বাজারে ইতিবাচক ধার দেখা গেলেও তা স্থায়ী হয়নি। ফলে শেয়ারবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা সংকট কাটেনি। তবে গত কয়েকদিনের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমূখী প্রবণতা বাজার সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের আশাবাদী করে তুলেছে। এ অবস্থায় বাজার সংশ্লিষ্টরা এ আস্থা ধরে রাখতে চাইছেন। তারা বলছেন, বাজারে এখনও অনেক কোম্পানির শেয়ারদর তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে। তা দেখে বিনিয়োগ করতে থাকলে বাজার ভালো হবে। আর বাজারে দুয়েকদিন দর সংশোধন হলেও তাতে বিনিয়োগকারীদেরকে হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
প্রসঙ্গত, গত জুন মাসে ডিএসইতে গড় লেনদেন ছিল ৩৭০ কোটি টাকা, জুলাই মাসে ছিল ৩৮৬ কোটি, আগস্ট মাসে ছিল ৪৫৮ কোটি এবং সেপ্টেম্বর মাসে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫১১ কোটি টাকায় উন্নীত হয়, একই সাথে সূচকও বৃদ্ধি পায় ১৮৮ পয়েন্ট। এছাড়াও বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ২০১৫ সালের প্রথম নয় মাসের তুলনায় ২০১৬ সালের প্রথম ৯ মাসে নিট বিদেশী বিনিয়োগ ৬১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
