প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'একটি মেয়েকে জনসম্মুখে কোপানো হয়েছে, মানুষ দাঁড়িয়ে তা দেখেছে। কেউ ভিডিও করছে, মোবাইল ফোনে ছবি তুলছে, কেউ মেয়েটাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। কেন এই মানবিক মূল্যবোধগুলো হারিয়ে গেল, কেন ওই মেয়েটিকে বাঁচাতে এগিয়ে গেল না।'
অপরাধীকে ধরা হয়েছে। যারাই অপরাধী, যে অপরাধই করুক সে শাস্তি পাবেই। তাকে শাস্তি পেতেই হবে এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'কোন কোন পত্রিকায় এসেছে ওই ছেলেটি অমুক দল, তমুক দল করে। এখানে কোন দলীয় কোন্দলের বিষয় ছিল না বা দল হিসেবে তাকে কেউ হত্যা করতে যায়নি। পত্রিকায় এসেছে প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে সে খাদিজাকে হত্যা করতে গেছে। এজন্য একটা মানুষকে হত্যা করতে হবে? পত্রিকা এবং কিছু লোক এটাকে দলীয় হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করছে। দলীয় হিসেবে তাদেরকে কেউ প্রশ্রয় দিচ্ছে না।'
বৃহস্পতিবার দশম জাতীয় সংসদের ১২তম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে সম্প্রতি সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার নার্গিসের উপর হামলার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, 'জাতির কাছে দেয়া ওয়াদা অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরা করছি। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা এ বিচার শুরু করেছিলেন। কিন্তু '৭৫-এর ১৫ আগস্টে জাতির পিতাকে হত্যার পর হত্যা, ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের যে যাত্রা শুরু হয় তখন এই অবৈধ ক্ষমতা দখল করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে দিয়েছিল এবং তাদেরকে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, উপদেষ্টা করেছিল। এমনকি খালেদা জিয়া যাদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচার হয়েছে, বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে তাদের হাতে লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা তুলে দিয়েছিল। তাদের মন্ত্রী করা হয়েছিল।'
যুদ্ধাপরাধীদের যারা মন্ত্রী করেছে তাদেরও বিচার হওয়া উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। কারণ তারা যুদ্ধাপরাধী। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের যারা মন্ত্রী করেছে তাদের বিচার কেন হবে না? তাদেরও বিচার হওয়া উচিত। যে অপরাধ করে তারা যেমন অপরাধী আর যারা অপরাধকে সমর্থন করে তারাও তেমন অপরাধী।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিএনপি অনেক নেতারা এ ব্যাপারে অনেক কথা বলছেন। তারা যখন জীবন্ত মানুষের গায়ে পেট্রোল ঢেলে দিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে সে কথা কি তারা ভুলে যাচ্ছে। পুলিশকে ধরে নিয়ে গিয়ে তাকে মেরে ক্ষত-বিক্ষত করেছে। তাও আমরা দেখেছি। এভাবে প্রকাশ্যে মানুষ হত্যা করা বিএনপি-জামায়াতই শিখিয়েছে। এরাই পথ দেখিয়েছে। এই নৃশংসতা করে করে মানুষের ভেতরে একটা পশুত্বের জন্ম দিয়েছে।'
কে কোন দল করে তা বিবেচ্য বিষয় নয়, অপরাধ যে করবে তার বিচার হবেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান রয়েছে। যারাই এ জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত তাদের বিচার হচ্ছে এবং হবে।' তিনি অভিভাবক, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, ধর্মীয় শিক্ষক ও দেশবাসীকে তাদের সন্তান ও ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর রাখার আহ্বান জানান।
দেশ যে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা এখন প্রমাণিত বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, 'বিশ্বের অনেক দেশ এই স্বীকৃতি দিয়েছে। অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও দেশ এগিয়ে গেছে। মূল্যস্ফীতি কমেছে, প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, ব্যাপক কর্মসংস্থান হয়েছে, বিনোয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। ১শ'টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হচ্ছে। মানুষের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৪৬ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্রের হার অনেক হ্রাস পেয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশে মধ্যম আয়ে পৌঁছবে। ইতোমধ্যে নিম্নমধ্যবিত্ত দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত সংসদে থাকতে যা বলতো তা কান পেতে শুনা যেত না। বর্তমান বিরোধী দল সংসদীয় গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে অবদান রাখছেন। এজন্য বিরোধী দলকে তিনি ধন্যবাদ জানান।
এ সময় স্পিকারকে প্রধানমন্ত্রী জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান এবং তার দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করেন। -বাসস।
ইত্তেফাক/এসএস
