দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পারমাণবিক বোমার ধ্বংসযজ্ঞের জন?্য হিরোশিমা সফরে ক্ষমা চাননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট; তারপরও জাপানিরা দুই লাখ সালভিয়া ফুলে বারাক ওবামার ‘পুষ্পচিত্র’ গড়েছে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিতে। ওবামাকে নিয়ে এই পুষ্পচিত্রের প্রদর্শনী দেখতে হিরোশিমার ‘সেরা পার্কে’ দর্শনার্থীদের ভিড় জমেছে বলে খবর দিয়েছে জাপানি সংবাদমাধ্যমগুলো।
আশাহি শিম্বুন জানিয়েছে, ১০০ মিটার বাই ৫০ মিটার আয়তনের জমিতে লাল, সাদা আর নীল সালভিয়া ফুলে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ওবামাকে। সঙ্গে আছে ধ্বংসযজ্ঞে টিকে যাওয়া একমাত্র দালান সেই হিরোশিমা ডোম, শান্তির প্রতীক একটি কাগজের সারস আর জাপানি হরফে লেখা ‘শান্তি’ শব্দটি।
১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট এই হিরোশিমায় যুক্তরাষ্ট্রের ছুড়ে দেওয়া পারমাণবিক বোমায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ মারা যায়। এর তিন দিন পর নাগাসাকিতে আরো একটি বোমায় ৭৪ হাজার মানুষ নিহত হয়।
জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে গত ২৭ মে হিরোশিমায় আসার আগে ওবামা বলেছিলেন, যে কোনো যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সে সময়ের নেতারা নিয়ে থাকেন। তার হিরোশিমা সফরের উদ্দেশ্য অতীতে ফিরে যাওয়া নয়।
আর হিরোশিমায় এসে তিনি বলেছিলেন, ‘এখানে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তারাও আমাদের মতো সাধারণ মানুষ ছিল। সাধারণরা এই কথা আজ ভালো করে বুঝেছে বলে তারা আর কোনো যুদ্ধ চায় না।’ নৃশংসতা যে কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না— সেই শিক্ষা সন্তানদের দেওয়ার পরামর্শ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
হিরোশিমার সেরা লিলি পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসুয়া ওহাতা বলেন, ‘এই পুষ্পচিত্রের মাধ্যমে আমরা হিরোশিমার পক্ষ থেকে ওবামাকে শান্তির বার্তা ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। ওবামার ঐতিহাসিক সফরে আমাদের মনে জমে থাকা ক্ষোভ প্রশমিত হয়েছে। আমরা চাই, শান্তি আর ভালোবাসার এই নির্লোভ মিলন অটুট থাকুক।’
ফুলের ওবামাকে দেখতে আসা দর্শনার্থী তাকাকু কোবরে বলেন, ‘এটি সত্যিই অসাধারণ শিল্পকর্ম হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যারা মারা গেছে, তাদের প্রতিটি আত্মত্যাগকে ফুল হিসেব ধরে ওবামার চিত্র শান্তির বাতাসকে তরঙ্গায়িত করছে।’
ইত্তেফাক/এএন
