আলেপ্পোর বিদ্রোহীদের ক্ষমার প্রস্তাব দিলেন আসাদ

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০১৬, ১৮:৫৮
আত্মসমর্পণের বিনিময়ে আলেপ্পোর বিদ্রোহীদের ক্ষমার প্রস্তাব দিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। এরই মধ্যে শহরটির বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত অংশের আরো কিছু এলাকা নিজেদের দখলে নিয়েছে দেশটির সরকারি বাহিনী।
 
বৃহস্পতিবার অস্ত্র ত্যাগ করে শহর ছেড়ে যাওয়ার বিনিময়ে বিদ্রোহীদের ক্ষমা করে দেয়ার ঘোষণা দেন আসাদ। এর পাশাপাশি আলেপ্পোর বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অংশের ওপর হামলা অব্যাহত রাখা ও পুরো দেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি।
 
ডেনিশ একটি টেলিভিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে আসাদ বলেন, ‘বিদ্রোহীরা আলেপ্পো ছেড়ে না যাওয়া পর্যন্ত লড়াই অব্যাহত থাকবে। তাদের যেতে হবে, আর কোনো বিকল্প নেই।’ সিরীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি চান বিদ্রোহীরা প্রস্তাব গ্রহণ করে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত অন্য কোনো এলাকায় চলে যাক। তবে এই প্রস্তাব গ্রহণ করার জন্য তিনি বিদ্রোহীদের কোনো সময়সীমা বেঁধে দেননি।
 
এদিকে বিদ্রোহীরা জানিয়েছেন, তাদের আলেপ্পো ছেড়ে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। ক্ষমার এই প্রস্তাবকে ‘প্রতারণা’ বলে অভিহিত করে এর নিন্দাও জানান তারা। আলেপ্পোর একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা জাকারিয়া মালাহিফজি বলেছেন, ‘বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর পক্ষে আলেপ্পো ছাড়া অসম্ভব, কারণ, এটি (ক্ষমার প্রস্তাব) সরকারের একটা চালও হতে পারে। আলেপ্পো অন্য এলাকাগুলোর মতো নয়, তাদের পক্ষে আত্মসমর্পণ করা সম্ভব না।’
 
তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিদ্রোহীরা বেশ কিছু অবরুদ্ধ এলাকায় সরকারের দেওয়া এ ধরনের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে দারাইয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। দামেস্কের নিকটবর্তী এই শহরটি কয়েক বছর ধরে সরকারি বাহিনীর অবরোধের মধ্যে ছিল। চলতি বছরের আগস্টে বিদ্রোহী যোদ্ধারা অস্ত্র ত্যাগ করে শহরটি সরকারি বাহিনীর হাতে ছেড়ে দিয়ে নিরাপদে শহর ত্যাগ করে।
 
এরই মধ্যে আলেপ্পোর বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার প্রায় অর্ধেকটাই দখল করে নিয়েছে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী। ‘দ্য সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস’ বলেছে, বৃহস্পতিবার বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন করে এ অগ্রগতি অর্জন করেছে আসাদ বাহিনী। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শহরের কেন্দ্রস্থলে বুস্তান আল-বাসা আবাসিক এলাকায় লড়াই তীব্র আকার ধারণ করেছে। সিরিয়ার সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বুস্তান আল-বাসা এলাকাতেও লড়াইয়ে অগ্রগতি দাবি করেছে। তবে আলেপ্পোর একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর এক কর্মকর্তা ওই এলাকার লড়াইয়ে সরকারের অগ্রগতির এ দাবি অস্বীকার করেছেন।
 
এদিকে আলেপ্পোতে বিমান হামলা অব্যাহত থাকলে বড়দিন নাগাদ শহরটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে বলে সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত স্টিফেন ডি মিস্তুরা। এর পাশাপাশি তিনি সিরিয়ায় সেব্রেনিংসা ও রুয়ান্ডার মতো আরো একটি গণহত্যার ঘটনা প্রতিহত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আকুল আবেদন জানান। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়  বৃহস্পতিবার তিনি এসব কথা বলেন।
 
মিস্তুরা বলেন, ‘আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চলে যে হারে বোমা হামলা হচ্ছে তাতে বড়জোর আড়াই মাস সময় আছে। এর মধ্যে আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চল পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ মারা যাবে। পালাতে গিয়ে অনেকে আহত হবে আবার অনেকে শরণার্থী হবে।’ সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্স
ইত্তেফাক/এমএএস