খোলা বাজারে চাল, আটাসহ পণ্য বিক্রি (ওএমএস) এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে সুলভমূল্যে বিতরণকৃত খাদ্যশস্য বিক্রিতে ডিলারদের কমিশনে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) প্রত্যাহার করেছে রাজস্ব বোর্ড। এর ফলে তুলনামূলক দরিদ্র মানুষের কাছে পণ্য বিতরণের এ কার্যক্রমের গতি স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি এনবিআর এ সংক্রান্ত এক আদেশে (এসআরও) এ ধরনের পণ্য বিপণনে ডিলাররা যে কমিশন পেয়ে থাকেন- তার উপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার করার কথা বলা হয়।
আদেশে বলা হয়, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য প্রদত্ত সুবিধা, বাধাহীন ও সুলভ করতে ডিলারদের কমিশনের ওপর প্রযোজ্য ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রদান হতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। অবশ্য এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, এখন থেকে এ ধরনের খাদ্য বিতরণে ডিলাররা ভ্যাট অব্যাহতি পেলেও অতীতের প্রযোজ্য ভ্যাট দিতে হবে।
বিদ্যমান ভ্যাট আইন অনুযায়ী ওএমএসের পণ্য বিতরণে ডিলারদের কমিশনের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য রয়েছে। ডিলাররা প্রতি কেজি চাল বিতরণের জন্য দেড় টাকা এবং প্রতি কেজি আটা বিতরণে এক টাকা হারে কমিশন পেয়ে থাকেন। এই টাকা থেকে ডিলাররা গুদাম থেকে ভোক্তা পর্যায়ে বিতরণ পর্যন্ত পরিবহন, দোকান ভাড়া ও বিতরণকারী কর্মীদের মজুরিসহ অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু এর উপর ভ্যাট আরোপ হওয়ায় সরকারের সামার্জিক নিরাপত্তা কর্মসূচির এ কার্যক্রমটি বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। সম্প্রতি খাদ্য মন্ত্রণালয় এসব প্রসঙ্গ তুলে ওএমএসের পণ্য বিতরণে ডিলারদের কমিশন থেকে এই ভ্যাট প্রত্যাহারে এনবিআরকে অনুরোধ জানায়।
অবশ্য এ খাতের উপর ভ্যাটের বিষয়টি সংশ্লিষ্টরাও এতদিন জানতেন না। ফলে ডিলারদের কমিশনের উপর এতদিন কোন ধরণের ভ্যাটও কর্তন করা হয় নি। সম্প্রতি এ কার্যক্রমের উপর অডিট করতে গিয়ে ইস্যুটি নজরে আসে অডিট বিভাগের। অডিট বিভাগ এ খাত থেকে ভ্যাট কর্তন না করা ও সরকারি কোষাগারে জমা না দেয়ার বিষয়ে আপত্তি তোলে।
এনবিআরের একজন ঊদ্ধতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, আইনে থাকলেও ওএমএসের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে নিত্যপণ্য বিতরণ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। সমাজের স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষকে এর মাধ্যমে তুলনামূলক কম মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ করা হয়ে থাকে। এসব পণ্য বিতরণকারী ডিলারদের কমিশনে ভ্যাট অব্যাহতির দাবিটি যৌক্তিক। কিন্তু এতদিন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ ইস্যুটি এনবিআরের নজরে আনেনি। নজরে আসার পর ইস্যুতিতে এনবিআর যথাযথ গুরুত্ব দিয়েছে। এ জন্য তুলনামূলক স্বল্প সময়ে আদেশ জারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবে ধান ও চাল সংগ্রহ কিংবা বিপণনে ভ্যাট অব্যাহতি রয়েছে।
তবে এ সংক্রান্ত অব্যাহতির যে আদেশ দেয়া হয়েছে, তা ভূতাপেক্ষ হবে না (অতীতের কার্যক্রমকে অব্যাহতি দেয়া) জানিয়ে তিনি বলেন, এখন থেকে এ কার্যক্রম পরিচালনার উপরই কেবল ভ্যাট অব্যাহতি প্রযোজ্য হবে।
বাজারে চাল, আটাসহ নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া কিংবা অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সরকার স্বল্প মূল্যে খোলাবাজারে এসব পণ্য বিক্রির কার্যক্রম শুরু করে। এর মাধ্যমে সমাজের দরিদ্র মানুষ কিছুটা রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি এসব পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণেও তা সহায়ক। দেশব্যাপী ইউনিয়নপর্যায়ে ওএমএস কার্যক্রম চালু রয়েছে। অন্যদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এ আদলে ন্যায্য মূল্যের কার্যক্রম চালু রয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআই
