প্রতিবছরের মত এবারও ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ মিশনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী কুমারী পূজা। এই মণ্ডপেই ঢল নামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের। সকাল আটটা থেকে থেমে থেমে চলে উলুধ্বনি। শঙ্খে সুরও তুলছিলেন কেউ কেউ।
তখনও পূজা মঞ্চে আসেনি কুমারী ‘উমা’। তবে ভক্তরা সেই কাকভোর হতেই দূর-দূরান্ত থেকে এসে জড়ো হতে শুরু করেছেন মন্দির প্রাঙ্গণে। তাদের সাজ-সজ্জা আর বর্ণাঢ্য পোশাক জানান দিচ্ছে উৎসবের কথা। বাড়তে থাকে বেলা, সেই সঙ্গে বাড়ে ভক্তের ভিড়। ‘উমা’ বসলো পূজা মঞ্চে।
দেবীর মঞ্চে অধিষ্ঠানের আগে মন্ত্রোচ্চারণ ও ফুল বেলপাতার আশীর্বাদ পৌঁছে দেয়া হয় সবার হাতে। এরপর শত শত নারীর উলুধ্বনি আর বিনম্র ভক্তির মধ্য দিয়ে কুমারী পূজা সূচনা হয়। দুর্গাপূজার অষ্টমী বা নবমীতে সাধারণত ৫ থেকে ৭ বছরের একটি কুমারীকে প্রতিমার পাশে বসিয়ে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়।
রামকৃষ্ণ মিশন মন্দিরের পুরোহিত কুমারী পূজার তাৎপর্য সম্পর্কে বলেন, ‘দুর্গাপূজায় যে প্রতিমা পূজা করি সেটারই বাস্তব রূপ কুমারী পূজা। সমস্ত নারীর মধ্যেই মা দেবী অধিষ্ঠান করেন। যে মা’কে মাটির প্রতিমায় দেখলাম সেই মাকে সমস্ত নারীর প্রতিমায় দেখলাম। তার ফলে সমস্ত নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আসে, নিজেদের আধ্যাত্মিক উন্নতি হয়, সামাজিক উন্নতি হয়।’
কুমারী পূজায় রামকৃষ্ণ মিশনের বড় চত্বর পেরিয়ে সড়কমালা ছাপিয়ে ছিল ভক্তদের ভিড়। পুরো এলাকা জনারণ্যে পরিণত হয়। সকাল থেকেই নিরাপত্তা রক্ষায় সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ,আনসারের পাশাপাশি অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। ছিল র্যাব সদস্যদেরও কড়া প্রহরা।
মিশনের প্রবেশমুখে গোপীবাগ মোড় থেকে গোপীবাগ মাজার পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। দর্শনার্থী ও পূজারীদের ব্যাপক ভিড়ে টিকাটুলী,পুরানো ইত্তেফাক মোড়সহ ওই এলাকা মুখরিত হয়ে উঠে। মোড় থেকে হেঁটে ভক্তরা কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে সুশৃঙ্খলভাবেই পূজামণ্ডপে প্রবেশ করেছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে ভিড় উপচে পড়ে। আধা ঘণ্টার কুমারী পূজা শেষে ভক্তের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
ঢাকা ছাড়াও রামকৃষ্ণ মিশনের নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল ও দিনাজপুরসহ কয়েকটি মঠ এবং কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী পূজামণ্ডপেও কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়।
