ফ্রান্সের এক নার্সিংহোমে ১৯৯৭ সালের ৪ আগস্ট মারা যান জিয়েন ক্যালমেন্ট নামের এক নারী। খবর কিন্তু এটা নয়। ক্যালমেন্ট যখন মারা যান তখন তার বয়স ছিল ১২২ বছর! ছাপার ভুল নয়! প্রায় সোয়া একশ বছর পৃথিবীতে বেঁচে ছিলেন ক্যালমেন্ট।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ক্যালমেন্ট ৭ বছর বাড়তি জীবন পেয়েছিলেন। সেটা আবার কেমন? জ্যান ভিজ ও তার দুই সহযোগী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলছেন, ‘একজন মানুষের আয়ু বেশি হতেই পারে। কিন্তু কোনো মতেই তা ১১৫ পার হতে পারে না। জ্যান ভিজ ক্যালমেন্টের ১২২ বছরকে ব্যতিক্রম বলছেন।
সহজভাবে বলা যায়, স্কুলের পরীক্ষা যেমন ১০০ নম্বরের হয় এবং তাতে সর্বোচ্চ একজন ১০০ নম্বরই পেতে পারে তার বেশি নয়, তেমনি একজন সর্বোচ্চ ১১৫ বছরই বাঁচতে পারেন। ভিজ ও তার দুই সহযোগী জিয়াও ডং এবং ব্র্যান্ডন মিলহল্যান্ডের এই গবেষণা বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’ এ ছাপা হয়েছে। এরপরই গবেষক মহল বিভক্ত হয়ে গেছেন।
কেউ ভিজের গবেষণাকে হাস্যকর বলছেন, কেউবা আবার একদম সঠিক বলে মত দিয়েছেন। ইলিয়নের অধ্যাপক এস জে ওলশ্যাঙ্কি বলেছেন, ভিজকে আমি পূর্ণ সমর্থন করি। মানুষের আয়ুরও একটা সর্বোচ্চ সীমা তৈরি হচ্ছে। আমিও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। আমার গবেষণায়ও এরকম তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
ভিজের গবেষণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন ম্যাক্স-প্ল্যান্ক ওডেন্স সেন্টারের ডিরেক্টর ভপেল। তিনি বার্ধক্যের ওপর কাজ করছেন। ভপেলের স্পষ্ট কথা, এমন আজগুবি কথা কেন যে লোকে বলে বেড়ায় বুঝি না। আরো অবাক লাগে যখন দেখি এইসব ছাইপাশ বিখ্যাত সাময়িকীতে ছাপা হচ্ছে।
তিনি মনে করেন, কিছু বিজ্ঞানী বার বার একই বিষয়ে ভুল করেই যাচ্ছেন। এমনিতে মানুষের গড় আয়ু দিন দিন বাড়ছে। যেমন ১৯০০ সালে আমেরিকায় যারা জন্মগ্রহণ করেন তাদের গড় আয়ু ৫০ বছরও পার হয়নি। অথচ এখন যারা জন্মগ্রহণ করছেন তাদের গড় আয়ু ৮০ বছরের কাছাকাছি। এ বিষয়ে জাপান সবচেয়ে আগে। জাপানিদের গড় আয়ু ৮৩ বছর। বয়সের নির্দিষ্ট সীমারেখা নিয়ে বিরোধ থাকলেও এতদিন বাঁচার প্রয়োজন কী? যতদিন বাঁচুন, অথর্ব নয় সুস্থ হয়ে বাঁচুন- গবেষকদের মত।
