শুরু ২০১৪ সালের অক্টোবরে। মাশরাফি বিন মুর্তজার অধিনায়কত্বের দ্বিতীয় ইনিংসের গোড়াপত্তন সেই সময়েই। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জয়ের ঘোড়া তারপর থেকেই অদম্য গতিতে ছুটছে, মাশরাফির নেতৃত্বে টানা ছয়টি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। টাইগারদের সামনে এখন হাতছানি টানা সপ্তম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের রেকর্ডের সমকক্ষ হওয়ার। আগামীকাল বুধবার সিরিজের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলেই এই মাইলফলক স্পর্শ করবে মাশরাফির দল।
ওয়ানডে ক্রিকেটে টানা সবচেয়ে বেশি ১০টি সিরিজ জয়ের অসামান্য রেকর্ড আছে অস্ট্রেলিয়ার। ২০০২ থেকে ২০০৪ সালে প্রায় অনতিক্রম্য এই সিরিজ জয়ের রেকর্ড গড়েছিল রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া। তালিকার পরের দুটি স্থানও পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। অজিরা টানা ৯টি, ৭টি পর্যন্ত সিরিজ জেতার নজিরও গড়ে রেখেছে। বাংলাদেশ ছাড়াও টানা ৬টি সিরিজ জয়ের নজির আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও ইংল্যান্ডের।
মাশরাফির দল ২০১৪ সালের অক্টোবরে জিম্বাবুয়েকে ৫-০ তে হোয়াইটওয়াশ করেছিল। ২০১৫ সালের এপ্রিলে ঘরের মাঠে পাকিস্তানকেও ৩-০ তে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। দুই মাস পরই জুনে ভারতকে ২-১ এ ওয়ানডে সিরিজ হারায় টাইগাররা। একই বছর জুলাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকেও ২-১ এ সিরিজ হারের লজ্জা দিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় পায় মাশরাফি বাহিনী। সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের সঙ্গেও আসে ২-১ ব্যবধানের সিরিজ জয়।
বাংলাদেশ দল চলতি সিরিজে ইংল্যান্ডের কাছে প্রথম ম্যাচে ২১ রানে হেরেছিল। হাতের মুঠোতেই থাকা ম্যাচটি জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়ে ব্যাটিংয়ে তালগোল পাকানোর কারণে হেরে বসে মাশরাফির দল। দ্বিতীয় ম্যাচে অবশ্য দুর্দান্ত রূপে ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা। ব্যাট হাতে সুবিধা করতে না পারলেও বোলিংয়ে বিপুল বিক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়েন মাশরাফি-সাকিবরা।
অধিনায়ক মাশরাফির অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ৩৪ রানে ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতা ফেরায় বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ শেষে সিরিজের স্কোরলাইন এখন ১-১। তাই শেষ ম্যাচে যে দল জিতবে তারাই সিরিজ জিতে নেবে। টাইগারদের পয়মন্ত ভেন্যু চট্টগ্রামের সাগরিকায় আগামীকাল বুধবার অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।
মাশরাফি বলেছেন, সিরিজ জয়ের ভালো সুযোগ রয়েছে। দলটাও আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে। দলের তরুণ পেসার তাসকিন আহমেদও বিশ্বাস করেন সিরিজ জেতা খুব সম্ভব। গত রবিবার খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে সিরিজ জয় সম্পর্কে মাশরাফি বলেছিলেন, ‘সুযোগ আছে। হবে কি-না তা বলা যাচ্ছে না। তবে বেশ ভালো সুযোগ আছে। বিশেষ করে এমন একটা ম্যাচ জয়ের পর মোরালি সবার ভালো অবস্থায় থাকার কথা। সবাই যদি ফিট থাকি এবং চট্টগ্রামে গিয়ে ভালোমত প্রস্তুতি নিতে পারি তাহলে ভালো সুযোগ থাকবে।’
গতকাল চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ার আগে টিম হোটেলে সাংবাদিকদের কাছে সিরিজ জয়ের আশাবাদ জানিয়েছেন তাসকিন। তরুণ এই পেসার বলেছেন, ‘এখন ম্যাচটা আরও বেশি জমে গিয়েছে। কোনো সন্দেহ নেই যে ইংল্যান্ড অনেক শক্তিশালী দল। আমরা সেরাটা খেলতে পারলে জেতা সম্ভব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আসলে ফেবারিট বলে আগানো কঠিন। তবে আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে আশাকরি আমরা সিরিজ জিততে পারবো। জেতার পর অনেক আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।’
তাসকিন দ্বিতীয় ওয়ানডেতে প্রথম স্পেলে দুই ওভারে ১৯ রান দিলেও দ্বিতীয় দফায় এসে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান। তার আগুনে বোলিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পায় বাংলাদেশ। নিজের প্রথম স্পেলের বোলিং প্রসঙ্গে ডানহাতি এই পেসার বলেন, ‘ওরা সবাই পেসের বিপরীতে খুব শক্তিশালী। আমি ও মাশরাফি ভাই খুব ভালো বল করতে পেরেছি। যদিও আমার প্রথম স্পেলের একটা ওভার খুব খরুচে হয়ে গিয়েছিল। ওখানে ডিফারেন্ট কিছু ট্রাই করছিলাম, শর্ট বল। আসলে আমার শক্তির জায়গা পেস।’
ই্ত্তেফাক/এমএইচ
