মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর ২৭ দিন বাকি। এই সময়ে শুধু প্রার্থী নয় দলের নেতাকর্মীদেরও প্রচারণায় ডুবে থাকার কথা। বর্তমান অবস্থায় এ কথা ডেমোক্র্যাটদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও রিপাবলিকানদের ক্ষেত্রে হচ্ছে না। জনপ্রিয়তায় এগিয়ে থাকা হিলারি ক্লিনটনের ডেমোক্র্যাটিক দলের মনোভাব চাঙ্গা থাকলেও বড় বিপদে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের নেতারা। তারা নির্বাচনের আগে এসে ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী করার জন্য দলের ক্ষতির হিসাব-নিকাশ কষতে শুরু করেছেন। কারণ পরপর দুটি বিতর্কে ধরাশায়ী হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নারীদের সম্পর্কে নোংরা মন্তব্যের ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর তার জনপ্রিয়তাও কমতে শুরু করেছে। পাশাপাশি অনেক রিপাবলিকান নেতাও চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্পের ওপর থেকে তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। সর্বশেষ নারী বিদ্বেষী বক্তব্যের জের ধরে কংগ্রেস স্পিকার পল রায়ানের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে ট্রাম্পের। পল জানিয়েছেন, ট্রাম্পের পক্ষে সাফাই গাইবেন না।
গতকাল মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২৭ দিনে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য ২৭০টি ইলেকট্রোরাল ভোট সংগ্রহ করার জন্য কার্যত কোনো পথ ট্রাম্পের সামনে খোলা নেই। ট্রাম্পের কৌশলে কট্টর ভোটাররা পক্ষে থাকলেও উদার ভোটারদের টানা এখন রিপাবলিকানদের জন্য অনেক বেশি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দুই বিতর্কের পর রিপাবলিকানরা দুশ্চিন্তায় পড়েছে যে, ট্রাম্পকে প্রার্থী করার জন্য মার্কিন সিনেট এমনকি সম্ভবত কংগ্রেসেও তাদের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হতে পারে। সোমবার রিপাবলিকানদের জন্য দুশ্চিন্তা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে এনবিসি নিউজ/ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের নতুন এক জরিপ। ওই জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, নারীদের নিয়ে ট্রাম্পের নোংরা মন্তব্যের ভিডিও প্রকাশের পর হিলারি তার চেয়ে ১১ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
এদিকে নারীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্যকে ‘তালাবদ্ধ ঘরের কথা’ বলে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেও সফল হননি ট্রাম্প। বরং এই বক্তব্যে মার্কিন নারীরা আরো চটেছেন। তারা ট্রাম্পের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি বলে রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়েছে। অনেক রিপাবলিকান নারী ভোটার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একইসঙ্গে বিল ক্লিনটনের কেলেঙ্কারি নিয়ে কথা বলার কারণে ট্রাস্পকে ভালোভাবে নিতে পারছেন না অনেক ভোটার। এমন অবস্থায় নির্বাচনের দিন পর্যন্ত জয়ের জন্য ভালো ক্ষেত্র তৈরিতে পরিশ্রম করতে হবে ট্রাম্পকে।
ট্রাম্পের পক্ষে সাফাই গাইবেন না স্পিকার পল রায়ান
নারী বিদ্বেষী বক্তব্যের জের ধরে কংগ্রেস স্পিকার পল রায়ানের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে ট্রাম্পের। যদিও তিনি জানিয়েছেন, হিলারিকে আটকাতে ট্রাম্পের ওপর থেকে সমর্থন উঠিয়ে নিচ্ছেন না। তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের পক্ষে সাফাই গাইবেন না। কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান আসনসংখ্যা ধরে রাখতে চান তিনি। পলের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন তিনি। এতে বলা হয়, রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ যে কোনও মূল্যে ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন পল রায়ান। তিনি তার দলের কংগ্রেস সদস্যদের বলেছেন, তারা যেন নিজ নিজ এলাকায় হিলারিকে আটকানোর জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এরপর ট্রাম্প প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এক টুইট বার্তায় বলেছেন, পলের উচিত বাজেটে ভারসাম্য আনতে, কর্মসংস্থান বাড়াতে এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সময় ব্যয় করা, রিপাবলিকান প্রার্থীর সঙ্গে ঝগড়া করে নয়। কয়েক জন রিপাবলিকান নেতা পলের বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, এখন দলের ঐক্য জরুরি।
ট্রাম্পের ভিডিও ও অডিও ফাঁসের পর পল রায়ান জানিয়েছিলেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে উইসকনসিনের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেবেন না। কারণ ট্রাম্পের মন্তব্য শুনে তিনি ‘অসুস্থবোধ করছেন’। নারী বিদ্বেষী ভিডিও ফাঁসের পর সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জন ম্যাককেইন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিজ্জা রাইস, গ্যারি হারভার্টসহ বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্পের ওপর থেকে সমর্থন উঠিয়ে নিয়েছিলেন। আগেই মিট রমনি, জন কেসিক, জেব বুশ, লিন্ডসে গ্রাহামসহ অনেক সিনিয়র রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্পকে ভোট দেবেন না বলে জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের রানিংমেট মাইক পেন্স ও রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি’র চেয়ারম্যান রিনস প্রিয়েবাস এই দুঃসময়ে ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
নিজের জনপ্রিয়তা হতাশ করতে পারে হিলারিকে
এখন পর্যন্ত জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। সর্বশেষ এক জরিপে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের চেয়ে তিনি ১১ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। ধারাবাহিক এই বেশি জনপ্রিয়তা হতাশ করতে পারে হিলারি ক্লিনটনকে। কারণ অনেক ডেমোক্র্যাট ভোটার মনে করতে পারেন নির্বাচনে হিলারি নিশ্চিত জিততে চলেছেন। এ কারণে তারা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে নাও আগ্রহী হতে পারেন। আর তেমনটা হলে যে হিলারি বিপদে পড়ে যেতে পারেন সেটাই বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কম ডেমোক্র্যাটিক ভোট ট্রাম্পকে সুইং অঙ্গরাজ্যগুলোতে সুযোগ করে দিতে পারে। আর কম ভোটে হিলারি জিতলে একটি গভীরভাবে বিভক্ত জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার বড় চ্যালেঞ্জে পড়তে হতে পারে তাকে। এছাড়া তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে এখনো তার কিছু জটিলতা রয়েছে। এক্ষেত্রে হিলারিকে আরো কাজ করতে হবে।
ইত্তেফাক/এএন
