সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসের বেঁচে থাকার আশার আলো দেখছেন স্বজনরা। তার অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। গতকাল সকালে খুলে ফেলা হয়েছে লাইফ সাপোর্ট। স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেন শ্বাস- প্রশ্বাস।
স্কয়ার হাসপাতালের ডেপুটি মেডিক্যাল ডিরেক্টর ডা. মির্জা নিজামউদ্দিন বলেন, খাদিজার শারীরিক অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলার পর স্বাভাবিকভাবেই নিতে পারছেন শ্বাস-প্রশ্বাস। এর আগে সোমবার তার শ্বাসনালীতে ছোট্ট একটি অপারেশন করা হয়। গত দু’দিন (মঙ্গলবার ও বুধবার) কয়েক দফায় ভেন্টিলেশন খোলার পর তিনি স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছিলেন। গতকাল সকাল ১১টার দিকে লাইফ সাপোর্ট পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, আগে শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য মুখে টিউব ছিল, সেটি সরিয়ে গলার সামনের অংশে নেওয়া হয়েছে। তবে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত টিউব রাখতে হবে।
অপরদিকে গতকাল সন্ধ্যায় খাদিজাকে দেখতে স্কয়ার হাসপাতালে যান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি কিছুক্ষণ খাদিজার শয্যাপাশে অবস্থান করেন এবং চিকিত্সার খোঁজ-খবর নেন। এসময় তিনি খাদিজার উন্নত চিকিত্সা নিশ্চিত করতে চিকিত্সকদের নির্দেশ দেন। পরে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, খাদিজার চিকিত্সার দায়িত্ব সরকার নিয়েছে। স্কয়ার হাসপাতালেই তার উন্নত চিকিত্সা নিশ্চিত হচ্ছে। এতে খাদিজা সেরে উঠছেন। তাই আপাতত তাকে বিদেশ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। দেশেই খাদিজার চিকিত্সা সম্ভব। যদি প্রয়োজন হয় এবং চিকিত্সকরা পরামর্শ দেন তখন বিদেশে নিয়ে চিকিত্সা করানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তিনি বলেন, ক্রিটিক্যাল পরিস্থিতি থেকে এখন উন্নতি হয়েছে খাদিজার। এজন্য চিকিত্সকদের ধন্যবাদ।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অপরাধীর কোনো দল নেই। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। বিশ্বজিতের খুনিদের যেভাবে ছাড় দেওয়া হয়নি, একইভাবে খাদিজার ওপর হামলাকারীও রেহাই পাবে না।
খাদিজা আক্তার বর্তমানে স্কয়ার হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. এএম রেজাউস সাত্তারের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। তিনি বলেন, খাদিজা ডান পা ও হাত নাড়াতে পারছেন।
উল্লেখ্য, গত ৩ অক্টোবর সিলেটে ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের হামলায় আহত হন খাদিজা আক্তার নার্গিস। প্রথমে তাকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। অবস্থার অবনতি হলে গত ৪ অক্টোবর ভোরে তাকে স্থানান্তর করা হয় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে। ওই দিনই তার অপারেশন করা হয়। তখন স্কয়ার হাসপাতালের ডেপুটি মেডিক্যাল ডিরেক্টর ডা. মির্জা নিজামউদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, খাদিজার অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। তার মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। মাথার খুলি ভেদ করে ব্রেইনে ইনজুরি হয়েছে।
