‘হাত ধোয়ার অভ্যাস পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে সহায়ক’

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৬, ১৮:৪৪
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস সুস্থ, স্বাভাবিক ও সুন্দর জীবনের জন্য অপরিহার্য। শুধু খাবার আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পর সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার অভ্যাস সহজেই পানিবাহিত নানা ধরনের সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করতে পারে। প্রাত্যহিক জীবনে এটির গুরুত্ব বুঝে তা মেনে চলা উচিত।
 
শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন চত্বরে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মালেক, ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ডিযডুলা মাসাকি, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. ওয়ালী উল্লাহ প্রমুখ।
 
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বেগম নাসরিন আক্তার। মন্ত্রী ও অন্যান্য অতিথিরা বেলুন উড়িয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে রাজধানীর বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে আগত শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাবান ও পানি ব্যবহার করে হাত ধোয়া হয়। অনুষ্ঠানের শেষ ভাগে চলতি বছরের প্রতিপাদ্য- ‘হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ি’- উচ্চারণ করে হাত উঠিয়ে শিক্ষার্থীদের শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়।
 
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে আগামী প্রজন্মের মারাত্মক সব সংক্রামক রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। সেজন্য পরিবারের প্রতিটি সদস্য যাতে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার করে ও এর পর সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করে সেই দিকে সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে। স্বাস্থ্য সম্মতভাবে চলে নিজের আয়ু বৃদ্ধিতে ভূমিকা পালন করতে হবে।
 
মন্ত্রী বলেন, হাত ধোয়ার সুফল পেতে সঠিক সময়ে যেমন খাবার আগে ও টয়লেটের পর হাতধোয়ার অভ্যাস গড়তে হবে। সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস রোগ প্রতিরোধ সবচেয়ে সহজ, কার্যকর ও সাশ্রয়ী উপায় হিসেবে বিবেচিত। আর বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস হচ্ছে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সকলের মাঝে সচেতনতা তৈরির প্রচারণার একটি দিন।
 
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী স্যানিটেশন ও সুপেয় পানি প্রাপ্তির সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকলেও সরকার এর উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে বলেন, আমরা দেশে এখন ভূগর্ভস্থ পানি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করছি। ব্যবহৃত পানির মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগ ভূ-গর্ভস্থ ও ২০ ভাগ পানি ভূ-উপরিস্থ। ভূগর্ভস্থ পানির বেশি ব্যবহার হলে পানির স্তর নিচে নেমে যায়। এর প্রেক্ষিতে জমিতে শুষ্কতা ও উর্বরা শক্তি কমে যায়। তিনি হারিয়ে যাওয়া জলাধার পুনরুদ্ধার ও বিদ্যমান জলাধার সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন ক্ষেত্রে আমাদের ব্যাপক অগ্রগতির কারণেই গড় আয়ু বেড়েছে।
 
অনুষ্ঠানে ‘উন্নত স্যানিটেশন সুস্থ জীবন’, ‘সাবান দিয়ে হাত ধোব, রোগ ব্যাধি মুক্ত হবো’, ‘খাওয়ার আগে আর টয়লেটের পরে হাত ধুয়ে নিন ভাল করে’, ‘নিয়মিত ল্যাট্রিন পরিষ্কার রাখি, রোগব্যাধি থেকে দূরে থাকি’সহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক শ্লোগান প্রদর্শন করা হয়। 
 
 
 
ইত্তেফাক/এমআই