রাশিয়ায় সাইবার হামলা করবে আমেরিকা!

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০১৬, ১৬:০০
সাইবার হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে কুটনৈতিক সম্পর্ক আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে রাশিয়া সাইবার হামলা চালাচ্ছে, সম্প্রতি এমন অভিযোগ তোলে ওয়াশিংটন। এরপর দুই দেশের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট হুমকি দিয়ে বলেছেন, রাশিয়ায় সাইবার হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের একটা ‘বার্তা’ দিতে চায়। জবাবে কঠোর ভাষায় রাশিয়া বলেছে, আগ্রাসী ও খেয়ালি যুক্তরাষ্ট্রের হাত থেকে আত্মরক্ষায় যেকোন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ক্রেমলিনের এই হুমকিতে অনেকে ‘যুদ্ধের’ গন্ধও খুঁজতে শুরু করেছেন। রাশিয়া গত সপ্তাহে একটি ক্ষেপনাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। সেই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এই উত্তেজনার ‘ফসল’ বলেও গণমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।
 
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সংক্রান্ত যেসব রাজনৈতিক ই-মেইল হ্যাক হয়েছে সেগুলো রাশিয়া পরিচালিত। চলতি বছর ডেমোক্র্যাটিক দলের মধ্যকার আলোচনার বিভিন্ন তথ্য হ্যাক করার খবর প্রকাশিত হয়। খবরে বলা হয়, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য হ্যাক করার ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেন, এসব চেষ্টার সঙ্গে রাশিয়ার সরকার সরাসরি জড়িত নাও থাকতে পারে।
 
অন্যদিকে, রাশিয়ার কর্মকর্তারা সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সকে জানিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে সাইবার হামলার যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট ও নির্বাচন নিরাপত্তাবিষয়ক জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক এক যৌথ বিবৃতিতে দাবি করেন, ‘ক্রেমলিনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা কিছু সফল সাইবার হামলার সঙ্গে নিশ্চিতভাবে জড়িত। কারণ রাশিয়ার শুধু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব কর্মকাণ্ড চালানোর ক্ষমতা রাখেন।’ তবে তিনি এও বলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিকেন্দ্রীকরণ ব্যবস্থা এবং বহুমুখী পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ভারসাম্যের কারণে যেকোনো ধরনের ব্যালট ও নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়া খুবই কঠিন। তাই রাশিয়া যতই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ব্যাপারে নাক গলানোর চেষ্টা করুক না কেন, তারা ব্যর্থ হবেই।
 
ক্রুদ্ধ রাশিয়া:এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে চরম অবমাননাকর বলে উল্লেখ করেছে রাশিয়া । ক্রেমলিনের এক মুখপাত্র বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি রাশিয়ায় কোন ধরনের হামলা চালানোর চেষ্টা করে তবে তার পরিণতি মোটেও সুখকর হবে না। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিকে মোটেও ফাঁকা হুমকি মনে করছি না। কারণ এই হুমকি কোনো চুনোপুটি দেননি; বরং তা এসেছে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্টের মতো একজন ব্যক্তির কাছ থেকে। তাই ‘হামলাবাজ’ একটি দেশের নিকট থেকে আসা হুমকি প্রতিহত করে আমাদের নিজস্ব স্বার্থ রক্ষার্থে সব ব্যবস্থা বিবেচনায় রাখলাম।
 
কি বলেছিলেন বাইডেন:মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন চলতি সপ্তাহে এনবিসি নিউজকে একটি সাক্ষাতকার দেন। সাক্ষাতকারের এক পর্যায়ে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে রাশিয়ায় সাইবার হামলার হুমকি দিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে আমরা দেশটিকে একটা বার্তা দিব। আমাদের সেই ক্ষমতা আছে। তবে কখন সেই পদক্ষেপ নিব তা এখন প্রকাশ করছি না। আমাদের সুবিধামতো সময়ে তা করা হবে। বর্তমানে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তাতে আমাদের সেই পদক্ষেপে দারুণ কাজ দেবে।
 
অন্যদিকে, এই সংবাদমাধ্যমকে মার্কিন গোয়েন্দারা বলেন, সিআইএ ইতিমধ্যে রাশিয়ায় পাল্টা সাইবার হামলা চালানোর জন্য দরজা খোলা শুরু করেছে। হামলার টার্গেট নির্ধারণ এবং অন্যান্য প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে। রুশ নেতা ভ্লাদিমির পুতিনকে হেনস্তা করতেই এসব হামলা চালানো হবে বলে তারা ইঙ্গিত দেন।
 
এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত চারকিন। তিনি শুক্রবার বলেন, মস্কো-ওয়াশিংটন উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচে শীর্ষে পৌছে গেছে। তিনি বলেন, আমি মনে করি এটা খুব খারাপ। কারণ সিরিয়াসহ কিছু ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকলেও আমরা অনেক ব্যাপারে একসাথে কাজ করি। তবে এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে বর্তমানে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে পারস্পারিক শ্রদ্ধা অনেক কমে গেছে। রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এর সমাধান করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই রাষ্ট্রদূত বলেন, ওয়শিংটনের সঙ্গে কুটনৈতিক সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হবে বলে তার বিশ্বাস।
 
এই পরিস্থিতিতে অনেক নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেছেন, সাইবার হামলার হুমকি-পাল্টা হুমকি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আপাত ‘যুদ্ধপরিস্থিতি’ সৃষ্টি হলেও এটি আসলে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। মৌখিক ঝগড়া বাস্তব লড়াইয়ে রূপ নেবে বলে মনে হয় না। যদিও সপ্তাহ খানেক আগে ওয়াশিংটনে অবস্থানরত নিজ কর্মকর্তা ও তাদের স্বজনদের দেশে ফেরত আসতে বলেছিল মস্কো। অনেকে তখন মন্তব্য করেছিল এটা যুদ্ধের দিকে আরেক ধাপ অগ্রসর। এমনকি সাবেক সোভিয়েত নেতা মিখাইল গরবাচেভ কয়েকদিন আগে সতর্ক করে বলেছিলেন রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার কারণে ‘বিশ্ব বর্তমানে চরম উত্তপ্ত’ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। 
 

ইত্তেফাক/এএন