হিন্দু ধর্মের নিয়ম বলে, শবদাহে নেয়ার আগে মৃতের কফিনে হাত লাগাতে পারবেন না নারীরা। এমনকি, চিতায় আগুনও দিতে পারবেন না তারা। এই নিয়মকে অগ্রাহ্য করলেন এক সাহসী নারী, নিজের স্বামীর লাশ কাঁধে নিয়ে গেলেন শ্মশান পর্যন্ত!
আর পাঁচটা সাধারণ গৃহবধূর মতোই মেয়ে লোচনকে নিয়ে রাজস্থানের প্রত্যন্ত গ্রাম আলওয়ারে বাস অঞ্জু যাদবের। স্বামী রাকেশ যাদব ছিলেন গুজরাট পুলিশের হেড কনস্টেবল।
স্বামী গুজরাটে থাকায় মেয়েকে নিয়ে একাই গ্রামে বাস করতেন অঞ্জু। আচমকা খবর আসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে রাকেশ যাদবের। স্বামীর মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছিলেন অঞ্জু। মৃতদেহ যখন গ্রামে আনা হয় তখনও চোখের জল বাঁধ মানেনি।
কিন্তু স্বামীকে শেষযাত্রায় একা ছাড়তে চাননি অঞ্জু। তাই আত্মীয়-পরিজন-পড়শি থাকা সত্বেও এগিয়ে আসেন স্বামী মৃতদেহকে কাঁধ দিতে। বাকিদের সঙ্গে নিজেই স্বামীর মৃতদেহ বয়ে নিয়ে যান শ্মশান পর্যন্ত।
সেখানে একমাত্র মেয়ে হিসেবে বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন করে মেয়ে লোচন। ধর্মীয় নিয়মকে অগ্রাহ্য করায় প্রতিবাদ নয়, অঞ্জুর এমন সিদ্ধান্তে পাশে দাঁড়িয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন রাজস্থানের প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দারা।
ইত্তেফাক/কেপি
