টাকার লোভে খুন করি: তিন ঘাতকের স্বীকারোক্তি

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৬, ১৯:০৩
‘১৯ লাখ টাকার লোভে পরিকল্পিত ভাবে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সাবেক ভাইস প্রিন্সপাল আলী হোসেন মালিককে হাত পা বেঁধে ছুরিকাঘাতে হত্যা করি। কিন্তু টাকা পেয়েছি মাত্র এক লাখ ৪২ হাজার পাঁচশত টাকা।’ 
 
র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য জানিয়েছে তিন ঘাতক। র‌্যাব-৪ এর একটি টিম সোমবার এ তিন হত্যাকারীকে বরিশাল ও ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- গাড়ি চালক মাসুদ মল্লিক, কেয়ার টেকার সায়েদ ফকির ওরফে সাইফুল ও তার চাচাতো ভাই সুজন। 
 
মঙ্গলবার র‌্যাব-৪ এর কার্যালয়ে ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার লুৎফুল কবির এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
 
গত ১১ অক্টোবর বনানী ডিওএইচএস এর ২ নম্বর সড়কের ৫৩/এ নির্মাণাধীন ভবনের একটি কক্ষে আলী হোসেন মালিক খুন হন। এ ঘটনায় ভাষানটেক থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের স্বজনরা। পরে র‌্যাব ও পুলিশ তদন্ত শুরু করে। আলী হোসেন মালিক  আট বছর আগে অবসর গ্রহণের পর একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন।
 
র‌্যাবের অধিনায়ক খন্দকার লুৎফুল কবির বলেন, শিক্ষকতা থেকে অবসরে যাওয়ার পর আলী হোসেন সৈয়দ গ্রুপ অব কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) হিসেবে কাজ করতেন। কাজের চাপ বেশি থাকলে তিনি মাঝেমাঝে অফিসেই থাকতেন। এই কোম্পানির মালিক ও তার ছেলে মালয়শিয়াতে থাকেন।  ঘটনার দিনও তারা দেশের বাইরে ছিলেন। ঘটনার পর আমরা ছায়া তদন্ত শুরু করি। তদন্ত করতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাই।
 
তিনি বলন, গত ৯ অক্টোবর আলী হোসেন একটি ব্যাংক থেকে ১৯ লাখ টাকা তোলেন। গাড়িচালক মাসুদ তা দেখতে পায়। যখনই তিনি টাকা তুলতেন তা গাড়িচালক জানতো। সে দীর্ঘদিন ধরে টাকা উত্তোলনের বিষয়টি খেয়াল করতো। সে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে।
 
তিনি বলেন,  টাকা তোলার পর নিজের গাড়িতে করেই বনানীর অফিসে যায় আলী হোসেন। এরপর গাড়িচালক ওই ভবনটির কেয়ারটেকার সায়েদ ফকির সাইফুল ও তার চাচাতো ভাই সুজন টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করেন। ওই দিন বিকালে বাড়িতে থাকা অন্যান্য কর্মচারী বাবুর্চি আলমগীর হোসেন, সিকিউরিটি গার্ড মো. জুয়েল, বাসার কুকুর পালনকারী আশিকুল ও সেলিমকে কোকের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়। যাতে তারা রাতে ঘুমিয়ে থাকে। ৯ অক্টোবর রাতে আলী হোসেন অফিসে থাকেননি। তিনি বাসায় চলে যান। এরপর ১১ অক্টোবর আবারও অন্যান্য স্টাফদের কোকের সঙ্গে তারা ফের ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাইফুল ও সুজন আলী হোসেনের দরজা নক করে। দরজা খোলার পরই তারা ভেতরে প্রবেশ করে দুজন মিলে হাত-পা বেঁধে মুখে কসটেপ লাগিয়ে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। এরপর ওই কক্ষ থেকে নিচতলার অফিস কক্ষের ও সিন্দুকের চাবি নিয়ে আসে। এসময় গাড়ি চালক মাসুদ নিচেই ছিলেন। সিন্দুক থেকে একলাখ ৪০ হাজার টাকা নেয়। তারা ফের চার তলায় গিয়ে আলী হোসেনের মানিব্যাগ থেকে ২৫০০ টাকা নেয়। তারা টাকা ভাগবাটোয়ার করার পর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চাবি দিয়ে গেট খুলে সাইফুল ও তার চাচাতো ভাই সুজন বাসা থেকে বের হয়ে যায়।’
 
ডিআইজি  বলেন, প্রাথমিকভাবে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। হত্যার বর্ণানা দিয়েছে। আমরা তাদের বক্তব্য যাচাই বাছাই করছি।
 
তিনি বলেন, সায়েদ ফকির সাইফুল ও তার চাচাতো ভাই সুজন ঘটনার পর তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালের গৌরনদী চলে যায়। সেখান থেকেই তাদের গ্রেফতার করা হয়।
 
অপরদিকে গাড়ি চালক মাসুদ মল্লিককে ক্যান্টনমেন্ট থানার ইসিবি চত্বর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একলাখ ২৭ হাজার টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। 
 
 
 
ইত্তেফাক/এমআই