ফ্রান্সে তৃতীয় রাতের মতো চলছে পুলিশের বিক্ষোভ

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০১৬, ১৭:২০
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের বিভিন্ন সড়কে তৃতীয় রাতের মতো পুলিশের কয়েকশ’ সদস্য বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। বিক্ষোভে থেকে এ বাহিনীকে আরো শক্তিশালী এবং অপরাধীদের কঠিন সাজা দেয়ার আহবান জানানো হয়।
 
দেশে পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তাদের ওপর ধারাবাহিক হামলার পর তারা এসব বিক্ষোভ এভাবে প্রদর্শন করেন। পুলিশের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ নিরসনে সরকারের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার রাতে ফ্রান্সের অন্যান্য নগরীতেও তারা বিক্ষোভ করে। এদিকে ফ্রান্সে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার বিয়ষটি দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
 
প্রায় ৫শ’ কর্মকর্তা আইফেল টাওয়ারের কাছে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এসব কর্মকর্তাদের অধিকাংশই ছিলেন সাদা পোশাক পরা এবং কিছু কর্মকর্তার মুখ আংশিক ঢাকা। বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল ভালস বলেন, ‘পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি-দাওয়া মেনে নেয়া প্রয়োজন।’
 
শার্লে এবদো ম্যাগাজিন অফিসে গত বছরের হামলার পর পুলিশ বাহিনীর প্রতি ব্যাপক সহানুভূতি প্রকাশের কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘তারা ফ্রান্সের জনগণের ভালবাসার পাত্র। এটা কেবল শার্লির ঘটনার পর হয়েছে তা নয়, আগ থেকেই ফ্রান্সের নাগরিকরা দেশের পুলিশ বাহিনীকে অনেক ভালবাসে।’ 
 
সেখানে দুই জঙ্গির হামলাকালে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার ধরন ছিল খুবই মর্মান্তিক।  ফ্রান্সে এ ধরণের হামলার ঘটনায় দেশের নাগরিকরা স্তম্ভিত হয়ে পড়ে।
 
ভালস ফ্রান্সের পুলিশ কর্মকর্তাদের শান্ত হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘তাদের প্রতি আমার সমর্থন ও সহানুভূতি রয়েছে।’ টহল দেয়ার সময় পুলিশ বাহিনীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাদেরকে আরো শক্তিশালী অস্ত্র দেয়া হচ্ছে।
 
উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর রাজধানীর উপকণ্ঠে এক বোমা হামলায় ২৮ বছর বয়সী এক কর্মকর্তা মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন।
 
ফ্রান্সের পুলিশ ইউনিয়ন দেশের প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোঁয়া ওলাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার দাবি জানিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালানোর জন্য সর্বনিম্ন  সাজা নির্ধারণ করে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। উল্লেখ্য, পুলিশ ইউনিয়ন ইতোমধ্যে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নার্ড কাজেনুভের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে।
 
এদিকে ওলাঁদ শুক্রবার সকালে বলেছেন, তিনি আগামী সপ্তাহের শুরুতে পুলিশ ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা নিয়েছেন।
 
ইত্তেফাক/এমএইচ