‘গল্প খোঁজার দায়িত্ব চ্যানেলগুলোকেই নিতে হবে’

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৬, ১০:১৯
 
শোবিজের কোন অঙ্গনে নেই তিনি। তাই পরিচয়ের তালিকা অনেক দীর্ঘ। পাশাপাশি শিক্ষকতা করছেন দেশের নামকরা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে চুক্তিবদ্ধ একাধিক প্রতিষ্ঠানে। সব দিক মিলিয়ে সফলতাকে মুঠোয় বন্দি করে এগিয়ে চলা তাহসান চলমান গান, গল্প ও ব্যস্ততা নিয়ে জানিয়েছেন নানা কথা—
 
কাব্যিক ধারায় গান লেখার স্বীকৃতি হিসেবে নোবেল পেলেন বব ডিলান, অথচ বাংলাদেশে একই ধাঁচের একঘেঁয়ে কথায় রচিত গানের মাতামাতি। কারণ কি?
একঘেঁয়ে কথার পাশাপাশি ভালো কথার গানও হচ্ছে। তবে প্রচারের অভাবে সেগুলো আড়ালে চলে যাচ্ছে। দিন দিন গান হয়ে পড়ছে ভিডিও নির্ভর। ভিডিও না হলে গান এখন আর মানুষের কাছাকাছি আসতে পারছে না। সিডি বিক্রি, এমনকি প্রকাশও প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। তবে কিছু মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের অনলাইন প্লাটফর্মে ভালো কথার গানও সমানতালে শুনছেন শ্রোতারা।
 
আপনি নিজের গান লেখা কমিয়ে দিলেন কেন?
একটা সময় অনেক লিখতাম। আমার প্রথমদিকের অ্যালবামগুলোর প্রায় সব গানই আমি লিখেছি। গান লেখার জন্য অনুপ্রেরণা লাগে। নতুন কিছু লিখতে হলে, বলতে হলে অনেককিছু জানতে হয়, বুঝতে হয়, শিখতে হয়। লিখতে বসলেই হয়ে যায় না। হঠাত্ হঠাত্ লেখা আসে। আবার প্রস্তুতিরও প্রয়োজন আছে।
 
শুনলাম নতুন অ্যালবামের কাজ শুরু করেছেন?
হ্যাঁ, কাজ শুরু করেছি। অ্যালবামটি আসবে জিপি মিউজিকে। তবে কবে আসবে বলা যাচ্ছে না। টুকটাক লিখছি, সুর করছি। নতুনত্ব আর বৈচিত্র্য থাকবে এই অ্যালবামে। যতদিন না বুঝবো ভালো কিছু হয়েছে ততোদিন কাজ করে যাবো। একেকটা গান একেকটা বিষয় নিয়ে করার চিন্তা নিয়েই এগুচ্ছি।
 
অভিনেতা তাহসানের কাছে জানতে চাই ‘আমাদের নাটক-টেলিফিল্মে গল্পের অভাব’- কথাটি কতটুকু সত্য? সত্য হলে এর কারণ কি?
প্রতিবছর আমাদের বিভিন্ন উত্সব এবং বিশেষ দিনগুলো মিলিয়ে প্রায় তিন থেকে চারশ’ নাটক হয়। কিন্তু বাজেট খুব কম বলে ভালো স্ক্রিপ্ট রাইটাররা এদিকে ঝুঁকছেন না। চলে যাচ্ছেন বিজ্ঞাপনী সংস্থায়। হাতে গোনা যে ক’জন আছেন তাদের পক্ষে তো এতো নাটক লেখা সম্ভব না। তাই গল্প সঙ্কট চলছেই।
 
ভালো গল্প খোঁজার দায়িত্ব কার, চ্যানেলগুলোর? নাকি পরিচালকদের?
চ্যানেগুলোকেই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। নাটক-টেলিফিল্মে বাজেট বাড়াতে হবে। এটার কোনো বিকল্প নেই। পরিচালকদেরও উদ্যোগ নেওয়া উচিত। সম্মিলিত ইচ্ছেয় ভালো গল্প তুলে আনা সম্ভব।
 
ইদানিং ‘ব্লগিং’-এ মনোনিবেশ করেছেন মনে হচ্ছে?
হা হা... আসলে ‘ভিডিও লগ’ এখন বেশ জনপ্রিয়। আগে মানুষ কোথাও ঘুরতে গেলে ভ্রমণ কাহিনি লিখতেন। এখনো লেখে। কিন্তু এখন অনেকেই নিজের ঘোরাঘুরির সময়টাকে ভিডিও করে ইউটিউব ও অন্যান্য ভিডিও শেয়ারিং সাইটে আপলোড করছেন। আমিও করেছি দুটি। ভালো সাড়া পাচ্ছি। ভালো লাগে, তাই কিছুটা পথ এদিকেও হাঁটতে চাই।
 
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আপনি তো বিনোদন জগতের প্রায় সবগুলো সেক্টরেই কাজ করেছেন। আপনার কাছে কী মনে হয়, আমাদের সামগ্রিক চ্যালেঞ্জটা কি?
আমার মনে হয় আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দেশের মানুষকে দেশীয় কন্টেন্ট দিয়ে খুশি রাখা। মানুষ বাইরের গান শুনছেন, বাইরের সিনেমা দেখছেন, রিয়ালিটি শো দেখছেন। হিন্দি সিরিয়াল তো পুরো সন্ধ্যাটাই দখল করে নিয়েছে। এসব থেকে পুরোপুরি না হলেও অন্তত আশি থেকে নব্বই ভাগ মানুষের ফোকাস আমাদের গান, নাটক, সিনেমা, রিয়ালিটি শোর দিকে আনতে হবে। এক দিনে হবে না জানি। আমাদের প্রতিটি সেক্টরেই মেধাবী সৃষ্টিশীল মানুষ রয়েছেন। একতাবদ্ধ সিদ্ধান্ত, যথেষ্ট পৃষ্ঠপোষকতা, আর কাজের মধ্য দিয়ে এটা সম্ভব।
 
সাক্ষাত্কার : সুহৃদ সুফিয়ান