ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে আমন্ত্রণ পেলেও শেষ পর্যন্ত যায়নি বিএনপি। ‘আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বিএনপি যাবে’- আগেরদিন শুক্রবার দলের যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এক অনুষ্ঠানে সরাসরি একথা বললেও আজ শনিবার দলটির কোনো প্রতিনিধি সম্মেলনে যাননি।
যাওয়ার কথা বলেও বিএনপি কেন সম্মেলনে যায়নি, এনিয়েও শনিবার রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা হতে শোনা গেছে।
যাবে বলে যিনি বলেছিলেন সেই আলালেরও পরিচিত মোবাইল ফোন নম্বরগুলো শনিবার সারাদিন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার এক ঘণিষ্ঠজন ইত্তেফাককে বলেন ‘আসলে লজ্জায় তিনি কারও সঙ্গে এনিয়ে আর কথা বলছেন না।’
অন্যদিকে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মোবাইল ফোন নম্বরও শনিবার সারাদিন বন্ধ পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য আজ সন্ধ্যায় ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন ‘আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আমাদের কারও যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বা হয়নি-এরকম কোনটিই আমার জানা নেই। তবে যেহেতু দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, সেই কারণে মোয়াজ্জেম হোসেন আলালেরও উচিত হয়নি অন্য একটি অনুষ্ঠানে এভাবে দলীয় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে দেয়া। তার বক্তব্য অবশ্যই বিএনপিকে বিব্রত করেছে।’
বিএনপির নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়ে বিএনপির প্রাথমিক সিদ্ধান্ত ছিল। তবে বৃহস্পতিবার রাতে শেষ মুহূর্তে সেই সিদ্ধান্ত পাল্টে যায়।
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ বুধবার প্রতিনিধির মাধ্যমে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আমন্ত্রণপত্র পাঠায়। আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করে মির্জা ফখরুল বলেছিলেন, তারা যাবেন কি-না, এ ব্যাপারে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
চলতি বছরের মার্চে বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেই কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের কেউ যাননি। অবশ্য ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কাউন্সিলে দুই দলই প্রতিনিধি পাঠিয়েছিল।
ইত্তেফাক/এমআই
