উত্তরখানে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৬, ২০:১০
রাজধানীর উত্তরখান কাঁচপুরা এলাকা থেকে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে পুলিশ তার বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে। মুন্নী ওই এলাকার রুবেল হোসেনের স্ত্রী। ওই গৃহবধূর পরিবারের লোকজন ও স্বজনদের দাবি তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে রুবেল হোসেন পলাতক রয়েছেন। 
 
উত্তরখান থানার এসআই পরিমল চন্দ্র সরকার জানান, শুক্রবার রাত পৌনে ২টার দিকে গুরুতর অবস্থায় মুন্নীকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রাতে মুন্নী মারা যায়। পরে তার মরদেহ বাসায় নেয়া হয়। মুন্নীর স্বজনদের এ মৃত্যু নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয় এবং তারা থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ ওই বাসায় গিয়ে মুন্নীর লাশ উদ্ধার করে। তিনি আরো জানান, নিহতের গলায় কালো দাগ রয়েছে। মুন্নী আত্মহত্যা করেছে না তাকে হত্যা করা হয়েছে সে ব্যাপারে নিশ্চিত নয়। ময়না তদন্তের পর জানা যাবে মুন্নির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ। তবে ঘটনার পর থেকে স্বামী রুবেল পলাতক।
 
মুন্নি আক্তারের নানা আবদুল কাদের জানান, প্রায় দুই বছর আগে রুবেলের সঙ্গে মুন্নির বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই রুবেল যৌতুকের জন্য মুন্নির ওপর নির্যাতন করতো। সর্বশেষ গত ১৭ অক্টোবর রুবেল তাকে মারধর করলে শিশু কন্যাসহ মুন্নি বাপের বাড়ি গাজীপুরের বীরতৈল গ্রামে চলে যায়। ২১ তারিখ রুবেল গিয়ে ক্ষমা চেয়ে মুন্নিকে আবার নিয়ে আসে। 
 
উত্তরখানের বাসায় এনেই তাকে আবার নির্যাতন শুরু করে। খবর পেয়ে শনিবার দুপুরে উত্তরখান থানার পুলিশ তার বাসা থেকে মুন্নির লাশ উদ্ধার করে। আবদুল কাদের আরও জানান, বিয়ের আগে শুনেছি রুবেল এয়ারপোর্টে চাকরি করতেন। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস পর জানি তিনি বেকার ও নেশাগ্রস্ত। নেশার টাকার জন্য প্রায়ই মুন্নীকে মারধর করতেন।