দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আতঙ্কে দেশ থেকে টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন রিয়েল এস্টেট এন্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন। তিনি বলেন, বৈধ উপায়ে অর্জিত অপ্রদর্শিত অর্থ আবাসন খাতে বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে। তবে দুদকের কিছু প্রশ্নের জন্য এটি ব্যবহূত হচ্ছে না। এতে করে দেশের টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে।
রিহ্যাবের রজতজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে দুপুরে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি সংসদ সদস্য নূরুন্নবী চৌধুরী, সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, আবুল ফাত্তাহ মো. আহকাম উল্লাহ ইমাম খান, সরদার মো. আমিন, সোহেল রানাসহ আরো অনেকে।
সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি না করে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরির আহবান জানিয়ে আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য দুদককে অন্যভাবে কাজ করতে হবে। কেবল চিঠি দিয়ে সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করলে দেশের টাকা বিদেশে যেতেই থাকবে। আর মানুষও টাকা লুকানোর কৌশল বের করবে। মূলত ডিজিটাল পদ্ধতি যত বেশি কার্যকর হবে ততো দুর্নীতি কমে যাবে। সেজন্য দেশের টাকা দেশে বিনিয়োগ করার সুযোগ সৃষ্টির জন্য দুদকের কথিত চমক দেখানোর প্রবণতা বন্ধ করা দরকার। বরং দুদককে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ অর্জনের পথগুলো বন্ধ করার জন্য কাজ করতে হবে। সরকারি অফিসের দুর্নীতি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। রিহ্যাব সভাপতি আরও বলেন, আমরা চাই না দুদকের কার্যক্রম বন্ধ হোক। তবে সবকিছু মাথায় রেখে দুদকের কাজ করা উচিত। তিনি জানান, দুদক থেকে প্রতিদিন গড়ে তিনটি করে চিঠি রিহ্যাবে আসে। চিঠিতে বিভিন্ন নাগরিকের নামে ফ্ল্যাট বা প্লট রয়েছে কীনা তা জানতে চাওয়া হয়। এতে করে বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যারা সত্ তারাও ফ্ল্যাট কেনার সাহস করেন না। রিহ্যাব সভাপতি বলেন, নানা কারণে দেশের আবাসন খাত এখন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এতে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের সদস্য সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এর পেছনে বিনিয়োগ পরিবেশ না থাকা, মূল্যস্ফীতি, দুদকের হয়রানি ও জমি সংকটকে দায়ী করে সংগঠনটি। এ অবস্থায় দেশের আবাসন খাতে অলস টাকার ব্যবহার বাড়াতে হবে। কারণ এ খাতে বিনিয়োগ করলে জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়বে। কর্মসংস্থান বাড়বে। দেশের দ্রুত উন্নয়ন ঘটবে।
ইত্তেফাক/এএম।
