বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্রের বিরূপ প্রভাবের প্রতিবাদসহ ছয় দফা দাবিতে গতকাল বুধবার ঘণ্টাব্যাপী দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে জীবন বাঁচার সংগ্রাম কমিটি।
ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্রের ছাই ও দূষিত পানির কারণে ব্যাপকহারে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসল ও বিভিন্ন রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছে গ্রামবাসী। এ কারণে ফুলবাড়ি উপজেলার পূর্ব দুধিপুর গ্রামের প্রতিটি মানুষকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, গ্রামের মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানীয়জলের ব্যবস্থা করা, বেকার যুবক-যুবতিদের যোগ্যতার ভিত্তিতে তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্রে চাকরির ব্যবস্থা করা, পূর্ব দুধিপুর গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা, গ্রামে মসজিদ নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান ও বিদ্যুত্ কেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী স্কুল ও কলেজ নির্মাণ করে এলাকার ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা নিশ্চিত করা।
বিদ্যুত্ কেন্দ্রের পানি নিষ্কাশন ক্যানেলে পাশের গ্রামীণ রাস্তার ওপর সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে ছয় দফা দাবির সমর্থনে বক্তব্য রাখেন শিবনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ চৌধুরী বিপ্লব, জীবন বাঁচার সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারুল ইসলাম, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম বুলু, হাবিবুর রহমান, আনিছুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।
জীবন বাঁচার সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারুল ইসলাম ও সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম বলেন, তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণের সময় কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসীকে অনেক রঙ্গীন স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো স্বপ্নই দেখতে পায়নি এলাকাবাসী। উপরন্তু বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ছাইয়ের কারণে ফসলি জমিতে ফসল উত্পাদন কমে গেছে। অব্যাহত পানি নিষ্কাশনের কারণে এলাকায় নলকূপে পানি ওঠছে না। পানি শূন্য হয়ে পড়েছে এলাকা। বিশুদ্ধ পানির অভাবে বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী দূষিত পানি পান করেই জীবন বাঁচাচ্ছে। এতে প্রতিটি মানুষই এখন বিভিন্ন প্রকার চর্মরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন থেকে দাবি দাওয়া নিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করলেও কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসীর প্রতি কোনো সহানুভূতি দেখাচ্ছেন না। এ কারণে ছয় দফা দাবি পূরণ না হলে আগামীতে বিদ্যুত্ কেন্দ্র অচল করে দেওয়ার মতো আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলা হবে। ছয় দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রী ও বিদ্যুত্ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রদান করা হয়।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্রের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, এলাকাবাসীর বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আলোচনা করছেন। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে স্থানীয়ভাবে সেটাই করা হবে।
পার্বতীপুর (দিনাজপুর):পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক ২৫০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্রের লাগোয়া গ্রাম পূর্ব দুধিপুরের নারী-পুরুষ শিশুরা ‘জীবন বাঁচার জন্য সংগ্রাম কমিটি’র ব্যানারে ৬ দফা দাবিতে গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা কর্মসূচিকালে সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আনোয়ারুল ইসলাম, সদস্য সচিব মো. রবিউল ইসলাম, ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউপির চেয়ারম্যান বিপ্লব চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক ২৫০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্রের কারণে পূর্ব দুধিপুর গ্রামের মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং এখনও হচ্ছেন। তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্রের জন্য জমি অধিগ্রহণকালে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল একর প্রতি মাত্র ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। বিদ্যুত্ কেন্দ্রের পাশের বড়পুুকুরিয়া কয়লা খনির জমি অধিগ্রহণ বাবদ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে একর প্রতি ২০ লাখ টাকা করে। তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের আগে এখানকার গ্রামের সন্তানদের স্থায়ী চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়াও সবরকম সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে বিদ্যুত্ কেন্দ্রের কারণে গ্রামে পানির জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে। কয়লার ধোয়ার ছাই পড়ে প্রতিনিয়ত পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। জমিতে ফসল কমে গেছে এবং বহু মানুষের চোখের সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে ৬ দফা দাবি পেশ করা হয়। এসব দাবি জানিয়ে গত ২২ অক্টোবর বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে বলে সংগঠনের সদস্য সচিব মো. রবিউল ইসলাম উল্লেখ করেন।
ইত্তেফাক/এএন
