আবার সেই অপরূপা

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৬, ১২:৩৫

পাঁচ বছর বিরতির পর ‘জাজবা’ ছবির মাধ্যমে ঐশ্বরিয়া রাইয়ের রুপালি পর্দায় ফিরে আসাটা সবার কাছে যতটা কাঙ্ক্ষিত ছিল, ঠিক ততটা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি তিনি। এ ছবিতে পাঁচ-ছয় বছর বয়সী এক কন্যার মায়ের ভূমিকায় তাকে দেখা গিয়েছিল। বাস্তবেও সাবেক বিশ্বসুন্দরী এই অভিনেত্রী পাঁচ বছর বয়সী কন্যা আরাধ্যর জননী। ৪২-এ পা রাখলেও দর্শক আজও ঐশ্ব্বরিয়াকে ‘সুন্দরীতমা’ ভাবতে চান। সবকিছু ছাড়িয়ে তার গ্ল্যামারাস ইমেজটাই সবার কাছে বেশি গুরুত্ব পায় এখনো। এ বছর মুক্তিপ্রাপ্ত বায়োপিক সিনেমা ‘সর্বজিত্’-এ ঐশ্বরিয়ার দুর্দান্ত অভিনয় সবার প্রশংসা কুড়ালেও তার অপরূপা ইমেজ অনুপস্থিত ছিল। ‘জাজবা’ ও ‘সর্বজিত্’-এ তার অভিনীত চরিত্রগুলো ঠিক গ্ল্যামারাস ছিল না। অ্যাশকে সেই আগের মতো গ্ল্যামারাস কোনো নারীর চরিত্রে দেখার তৃষ্ণা অপূর্ণই থেকে যাচ্ছিল, ফলে দর্শক-ভক্তদের মধ্যে উশখুশ বাড়ছিল কেবল। সবার সেই তৃষ্ণা মেটাতেই এবার তিনি হাজির হচ্ছেন একটি গ্ল্যামারাস রোলে। এবারের দিওয়ালি উত্সবে মুুক্তি পাচ্ছে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন অভিনীত নতুন সিনেমা ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’। করণ জোহর পরিচালিত-প্রযোজিত জটিল প্রেমের অসাধারণ সমীকরণের হূদয় ছোঁয়া গল্পের এ ছবিতে তাকে দেখা যাবে বিবাহিতা এক নারী ‘সাবা তালিয়ার খান’-এর চরিত্রে।

স্বাধীনচেতা আধুনিক মানসিকতার সাবা একজন লেখক ও কবি। তার লেখা গান গেয়ে বিখ্যাত হয়ে ওঠে এক তরুণ গায়ক ‘অয়ন’। বিবাহিত এক স্বামী থাকা সত্ত্বেও সাবা একসময় অপেক্ষাকৃত তরুণ বয়সী অয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। অন্য আরেক তরুণী ‘আলিজা’র সঙ্গে অয়নের প্রেম থাকলেও বিবাহিতা সাবার সঙ্গেই অয়ন জড়িয়ে পড়ে নতুন সম্পর্কে। এ নিয়ে শুরু হয় টানাপোড়েন। অনেক নাটকীয়তার পর চূড়ান্ত এক পরিণতির দিকে এগিয়ে যায় ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ ছবির গল্প। পুরোনো দিনে ম্যাড়ম্যাড়ে প্রেমের গল্প নয়, আধুনিক সময়ের স্মার্ট প্রেমের গল্প তুলে ধরার চেষ্টা রয়েছে আলোচিত এই হিন্দি সিনেমায়। যাতে একটি বিশেষ চরিত্রে পাকিস্তানি শিল্পীর অভিনয়ের বিষয়টি নিয়ে অনেক কিছু হয়ে গেছে এরমধ্যে। যেকোনো মূল্যে ছবিটির মুক্তি ঠেকাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী এক জোট হয়ে মাঠে নেমেছেন। এ কারণেও রোমান্টিক ধাঁচের ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ ছবিটি এখন ভারতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনকেও গরম করে তুলছে। এ ছবিতে ঐশ্বরিয়া রাই অভিনীত সাবা চরিত্রের উপস্থিতি খুব বেশি নয়। মাত্র বিশ মিনিট দেখা যাবে তাকে এ ছবিতে। এখানে নায়ক রণবীর কাপুরের প্রেমিকা আলিজা চরিত্রে আনুশকা শর্মা রয়েছেন। পর্দায় তাকে দেখা যাবে অপেক্ষাকৃত বেশি সময়। কিন্তু তারপরও ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ ছবির প্রধান আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। তাকেই প্রাধান্য দিতে চাইছেন সব দর্শক। এ ছবির ট্রেলার, গান প্রভৃতিতে নায়ক রণবীর কাপুরের সঙ্গে অ্যাশের চমত্কার কেমিস্ট্রি দর্শক হূদয়ে তোলপাড় তুলেছে। ঐশ্বরিয়া এ ছবির বেশ কিছু রোমান্টিক দৃশ্যে তার পরবর্তী প্রজন্মের একজন নায়ক রণবীর কাপুরের সঙ্গে দারুণ ঘনিষ্ঠ হয়ে অভিনয় করেছেন। দৃশ্যগুলো শুটিংয়ের পর থেকেই এ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা হয়েছে। এমনও শোনা গেছে, ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ ছবিতে রণবীর কাপুরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রেমের দৃশ্যগুলোতে অভিনয়ের কারণে বচ্চন পরিবারে অসন্তোষ, বিরক্তি আর অস্বস্তির ঝড় বইছে। তবে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাত্কারে ঐশ্বরিয়া খোলামেলা ভঙ্গিতেই বলেছেন, ‘পরিচালক করণ জোহরের সঙ্গে আমার পুরোনো বন্ধুত্ব। সেই সুবাদে সে আরও বেশি কিছু চাইছিল আমার কাছ থেকে। যাতে আরও সাহসী হই, রণবীরের সঙ্গে আরও গাঢ় হয়ে অভিনয় করি রোমান্টিক দৃশ্যগুলোতে। আমি আমার সাধ্যমতো করেছি। তবে আমারও একটা সাধ্যের সীমারেখা আছে, এর বাইরে যাই কীভাবে?’ এ ছবিতে নিজের অভিনীত চরিত্র সাবা তালিয়ার খান সম্পর্কে বলতে গিয়ে অ্যাশ বলেন, ‘এ ধরনের চরিত্রে এবারই প্রথম অভিনয় করলাম। সাবা একজন আধুনিক স্বাধীনচেতা মেয়ে। তার নিজস্ব কিছু জীবন দর্শন রয়েছে। সাহসী মনের মেয়েটির চাওয়া-পাওয়ার বিষয়গুলো পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে আমি আন্তরিক ছিলাম। এজন্য কোনো রকম অস্বস্তি বোধ করিনি। সাবা চরিত্রটির ব্যাপ্তি খুব বেশি না হলেও এটি আমার জন্য অন্যরকম চ্যালেঞ্জ ছিল বৈকি!’