কোহলির উপর সবসময় নির্ভর করা উচিত নয়: গাভাস্কার

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৬, ১৯:০৪
বিরাট কোহলির উপর ভারতের নির্ভরশীলতা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক ও কিংবদন্তি খেলোয়াড় সুনীল গাভাস্কার। কিন্তু এই নির্ভরশীলতা চান না তিনি। তার মতে, 'কোহলির উপর ভারতের সবসময় নির্ভর করা উচিত নয়। কোহলি সবসময় ভারতের জেতাবে না। দলের সবাইকে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে।'
 
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৮৫ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে ভারতকে ৬ উইকেটের জয় এনে দিয়েছিলেন কোহলি। দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি। করেন মাত্র ৯ রান। আর ঐ ম্যাচে ৬ রানের হারে টিম ইন্ডিয়া।
 
এরপর তৃতীয় ম্যাচে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে একাই ভারতের জয় নিশ্চিত করেন কোহলি। ১৩৪ বলে ১৫৪ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি। ফলে ঐ ম্যাচে ৭ উইকেটের জয় পায় ভারত। তবে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে ৪৫ রানের বেশি করতে পারেননি ভারতের টেস্ট অধিনায়ক। আর ঐ ম্যাচেই ১৯ রান হার মানে টিম ইন্ডিয়া।
 
এই চার ম্যাচের ফলাফল বলছে- কোহলি বড় ইনিংস খেললেই ভারত জয় পায়, আর না খেললে ভারত হারে। তাই বুঝা যাচ্ছে, কোহলির উপর অনেক বেশি নির্ভরশীল ভারত। এটা বুঝতে পেরেছেন ভারতের সাবেক দলপতি গাভাস্কারও। কিন্তু এই চিত্রটা পছন্দ নয় গাভাস্কারের। তাই কোহলির উপর নির্ভরশীল না হওয়ার পরামর্শ দিলেন গাভাস্কার, 'কোহলির উপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয় ভারতের। দলের সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব নিয়ে খেলা উচিত। কারণ কোহলি সব সময় ভারতকে ম্যাচ জেতাবে না। দলকে জেতানোর দায়িত্ব নিতে হবে সবাইকে।'
 
চলমান সিরিজে ভারতের মিডল ও লোয়ার-অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের সমালোচনাও করেন গাভাস্কার। তিনি বলেন, 'ধোনি চার নম্বরে ব্যাটিং করতে যাচ্ছে। কিন্তু পাঁচ ও ছয় নম্বরে যারা ব্যাট করতে নামছে, তারা ব্যর্থ। তাদের উপর ভরসা করা যাচ্ছে না। কোহলি-ধোনি ব্যর্থ হলে অন্য কাউকে দলের জয় নিশ্চিত করা উচিত। যা আমরা গেল চার ম্যাচে দেখতে পেলাম না। মনিষ পাণ্ডে ও কেদার যাদবের আগে অক্ষর প্যাটেলকে উপরে ব্যাট করতে পাঠানো বোকামি। দলের স্পেশালিষ্ট ব্যাটসম্যানদেরই বেশি বেশি সুযোগ দেয়া উচিত।'
 
পেসারদের দায়িত্বও নিয়েও সমালোচনা করেন গাভাস্কার। তিনি বলেন, 'উমেশ, হার্ডিক, বুমরাহ ও কুলকার্নি ভালোভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারছে না। উইকেট নিলে রান বেশি দিচ্ছে, রান কম দিলে উইকেট পাচ্ছে না। আবার পেসার খারাপ করাতে বাধ্য হয়েই কেদার যাদবকে দিয়ে বল করানো হচ্ছে। এটা ভালো দিক নয়।' -বাসস।
 
ইত্তেফাক/এসএস