শিশু যৌন নির্যাতনকারীদের রাসায়নিক ব্যবহার করে নপুংসক করে দেয়ার বিষয়ে আইন অনুমোদন করেছে ইন্দোনেশিয়া। ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের প্রেক্ষাপটে এই আইনের প্রস্তাব করেছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো।
রাসায়নিক নপুংসকীকরণ প্রক্রিয়ায় অভিযুক্তকে নারী হরমোনের ইনজেকশন দেয়া হয়। পোল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া ও কিছু মার্কিন অঙ্গরাজ্যে এই প্রক্রিয়ায় যৌন নির্যাতনকারী পুরুষ অপরাধীদের শাস্তি দেয়া হয়। নতুন আইনে শিশু যৌন নির্যাতনকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে এবং অপরাধীদের ইলেকট্রনিক ট্র্যাকিং এর ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসার অনুমোদন দিয়েছে। শিশু যৌন নিপীড়নকারীর সর্বনিম্ন শাস্তি ঠিক করা হয়েছে ১০ বছর কারাদণ্ড।
এই আইনের বিষয়ে দেশটির পার্লামেন্টে প্রচণ্ড বিতর্ক হয়, বিরোধী দুই দল ধর্ষকদের নপুংসক বানানোর বিরোধিতা করে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এই আইনের বিরোধিতা করেছে, তাদের মতে সহিংসতার মোকাবেলা সহিংসতা দিয়ে সম্ভব হবে না। ইন্দোনেশিয়ার চিকিৎসকদের সংগঠনও এই আইনের বিরোধিতা করেছে। তারা বলেছে, নপুংসকীকরণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিলে তারা তাদের পেশাগত নৈতিকতা লঙ্ঘন করবে তাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে না।
ইন্দোনেশিয়ার নারী ক্ষমতায়ন ও শিশু সুরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী ড. ইয়োগানা সুসানা ইয়েমবিস বলেন, আমরা প্রার্থনা করছি এই আইনের ফলে এ ধরণের অপরাধ কমে আসবে। এখন আমরা সবচেয়ে কঠোর শাস্তির প্রস্তাব করেছি। এগুলো আইনে পরিণত হয়েছে। তাই আপনি যদিও ধারণাটি অপছন্দ করেন তারপরেও এখন সবাইকে এটি সমর্থন করতে হবে। বিবিসি।
ইত্তেফাক/এসএসএ
