জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, '২০২২ সাল নাগাদ কয়লা ব্যবহার করে ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।'
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জ্বালানি খাত বিষয়ক 'এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার' ম্যাগজিনের উদ্যোগে মেগা প্রজেক্ট ডিবেট শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্লানের অধীনে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা হবে প্রাথমিক জ্বালানি।'
তিনি বলেন, 'দেশে বর্তমানে ৩৫০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা মজুদ রয়েছে এবং যদি এর ৩৫ শতাংশ কয়লা উত্তোলন করা হয় তাহলে তা ২৮ টিসিএফ গ্যাসের সমতুল্য হবে।'
তিনি অভিযোগ করে বলেন, 'প্রস্তাবিত রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে বর্তমান প্রচারণার লক্ষ্য হচ্ছে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের পরিকল্পনায় বিঘ্ন ঘটানোর পাশাপাশি বিএনপি ও তাদের মিত্র জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অশুভ তৎপরতার বাস্তবায়ন।'
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রামপাল বিরোধী ক্যাম্পেইনের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের লিংক পাওয়া গেছে বলেও তিনি এ সময় মন্তব্য করেন।
গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেয়া বেশীর ভাগ বিশেষজ্ঞ বলেন, 'এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন গ্রুপের প্রচারণার কোন বৈজ্ঞানিক অথবা কারিগরি ভিত্তি নেই।
'এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার' সম্পাদক মোল্লাহ এম আমজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার আবদুস সালেক সুফি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
জ্বালানি বিষয়ক লেখক অরুণ কর্মকার, বাপেক্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুরতুজা আহমেদ ফারুক, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ইজাজ হোসেন এবং বুয়েটের ড. কাজী বায়জিদ কবির, কনজুমারর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম এবং পিডিবি’র সাবেক প্রধান প্রকৌশলী এম মিজানুর রহমান প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন।
মূল প্রবন্ধে সুফি বলেন, 'প্রস্তাবিত কয়লা ভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সুন্দরবন রক্ষায় বিশেষ করে নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ এবং ভালো মানের কয়লা ব্যবহারে সরকারের পদক্ষেপে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমি সন্তুষ্ট।'
'২৭৫ মিটার উঁচু চিমনি স্থাপন এবং অস্ট্রেলিয়া অথবা ইন্দোনেশিয়া থেকে সর্বোচ্চমানের কয়লা প্যানামাস্ক অথবা সুপারমাস্ক মাদার ভেসেলের মাধ্যমে গভীর সমুদ্রে নিয়ে আসা হবে।' উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'এসব পদক্ষেপ পরিবেশের ঝুঁকি ন্যূনতম পর্যায়ে কমিয়ে আনবে।' -বাসস।
ইত্তেফাক/এসএস
