ধানমন্ডি-৩২ নম্বর থেকে প্রধান সড়ক পার হলেই পান্থপথ। ওই পথ ধরে সামনের দিকে কিছুদূর এগুলেই অভিজাত স্কয়ার হাসপাতাল। এর পাশেই রাস্তার ধারে বিশাল জায়গা জুড়ে ডাস্টবিন। ফলে দুর্গন্ধে ওই সড়ক ধরে চলাচল মুশকিল। নাকে হাত দিয়ে নিশ্বাস বন্ধ করে ওই পথ পাড়ি দিতে হয় পথচারিদের। জানা যায়, আশ-পাশের ফ্ল্যাটের জমিয়ে রাখা ময়লাই সেখানে ফেলা হয়। সেখান থেকে সিটি করপোরেশনের গাড়ি এসে তুলে নিয়ে যায় ময়লা। দিনের যে কোনো সময় ময়লা ফেলার কারণে ওই এলাকায় বাসিন্দারা অস্বস্তি প্রকাশ করেন। অনেক আশ্বাসের পরেও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কে ময়লা ফেলা বন্ধ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। বছরের পর বছর এ সমস্যা নিয়েই চলাচল করছেন এলাকাবাসী ও পথচারিরা।
সেখানকার একজন দোকানি বলেন, ‘কি করমু, আমাগো কথা, কেডায় হুনবো। এই সমিস্যা অনেক দিনের পুরান, কিন্তু কোনোভাবেই ঠিক হচ্ছে না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এই জায়গায় খাবারের ছুড দোকান আছিলো, কিন্তু ভালোভাবে হেইডা চলতো না। হ্যের লাইগা ব্যবসা বদলাইছি।’ কিন্তু ডাস্টবিনের জন্যে এই জায়গায় কোনো কাস্টমার খাড়াইতে চায় না। ব্যবসা পুরাই লস। তার সঙ্গে সুর মেলান ওই সড়কের আরো দুই দোকানি। তাদেরও একই অভিযোগ, মেইন সড়কের এই সমস্যা দেখার যেন কেউ নেই।
সেখানে শুধু ময়লা ঢেলেই খান্ত হয় না। ময়লা ফেলার পর ভাঙ্গারি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্যে কাঁচামাল সংগ্রহের কাজটিও করে ছোট ছোট শিশু ও নারীরা। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় সেখানে শিশুদের ময়লা ঘাটার কারণে আরো উত্কট গন্ধে চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। আশপাশের দোকানি, পথচারি ও এলাকাবাসীর স্বাস্থ্য সমস্যাসহ মশা-মাছি জমেছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। ওই আবর্জনা ফেলানোর স্থানটির একপাশে স্কয়ার ও অন্যপাশে শমরিতা হাসপাতাল। দুটি হাসপাতাল সেখানে থাকার পরও কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের নজরদারি নেই।
পান্থপথের একজন এলাকাবাসী বলেন, শুনেছি, অনেকবার এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই ডাস্টবিন সরিয়ে ফেলা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা সরানো হয়নি। এই সড়ক ধরেই আমাদের ছোট্ট বাচ্চা কিংবা অসুস্থ রোগীদের নিয়েও প্রতিনিয়ত চলাচল করতে হয়, ভালো লাগার কথা না, কিন্তু এলাকাবাসীও এখন সহ্য করে নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। যার কারণে হয়তো কেউ কিছু বলে না। কিন্তু এই সমস্যাটি সবার বিষফোঁড়া। সকাল, দুপুর, বিকাল কিংবা সন্ধ্যার যে কোনো সময় সেখানে ময়লা নামানো কিংবা উঠাতে দেখা যায়। এ পথ ধরেই হাসপাতালসহ প্রাইভেট চিকিত্সকের কাছে যাওয়া আসা করছে হাজারো রোগী। ওই পথে দিনের বেলায় যানজটে আটকা পড়ে থাকা রোগীসহ পথচারিদের দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা ।
ইত্তেফাক/এএন
