'ঐক্যবদ্ধভাবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে'

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৬, ০৮:৪৭
 
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এর জন্য কোনো দেশকে এককভাবে দায়ী না করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সমস্যার সমাধান করতে হবে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ যে কোনো আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দ্বান্দ্বিক মনোভাব পরিহার করেতে হবে।
 
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে কপ-২২ বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন উপলক্ষে ‘বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠীর পক্ষে নাগরিক সমাজের প্রস্তাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এসব কথা বলেন। ইকুইটিবিডির প্রধান নির্বাহীর সঞ্চালনায় এ সেমিনারে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. হাছান মাহমুদসহ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর সব দেশ কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে; কিন্তু দেশগুলো আলাদাভাবে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারেনি। এজন্য জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যাকে কোনো একক দেশের সমস্যা হিসেবে না দেখে বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে দেখতে হবে। তিনি বলেন, এই সমস্যার বিষয়ে সরকার, সুশীল সমাজ এবং বেসরকারি সংগঠন তাদের নিজস্ব অবস্থান থেকে বক্তব্য তুলে ধরছে। এ বক্তব্যগুলোর মধ্যে সমন্বয়সাধন করা যেতে পারে। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে সবার সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বিশ্বের সব দেশ কমবেশি দূষণ করছে। এজন্য কোনো দেশকে এককভাবে দায়ী না করে সবাইকে নিয়ে এ সমস্যার মোকাবেলা করতে হবে।
 
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যাকে কেন্দ্র করে দাতা এবং উন্নত দেশগুলো ব্যবসা করার যে প্রবণতা দেখাচ্ছে তা বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্ব ব্যাংক জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা মোকাবেলায় যে দুই বিলিয়ন ডলার দেবে বলেছে তা যাতে অনুদান হিসেবে আসে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বাংলাদেশের উন্নয়নের কাজে ঋণ নিতে পারে; কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় নয়। হাছান মাহমুদ প্যারিস জলবায়ু চুক্তির আলোকে অভিবাসন সমস্যার বিষয়টি মারাকাস সম্মেলনে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
 
পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, জলবায়ু চুক্তির আলোচনা যখন থেকে শুরু হয়েছে সে সময় থেকে পৃথিবীর ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন উন্নয়শীল বেশ কয়েকটি দেশ উন্নত দেশের দূষণের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। জলবায়ু আলোচনায় এ বিষয়টিও খেয়াল রাখতে হবে। ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিনিধি আবুল হোসেন সেমিনারে বলেন, সুশীল সমাজের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের অমিল থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মিল আছে। এটি আশার বিষয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জিয়াউল হক, ড. নিলুফার বানু, ড. শারমিন নিলোর্মি, সাংবাদিক কাওসার রহমান, অক্সফাম-এর কর্মকর্তা মোজহিদুল ইসলাম নয়ন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।