আক্কেলপুরে ভিজিডির চাল বিক্রি করে দিচ্ছেন উপকারভোগীরা

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৬, ১০:৩৯
 
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় ভিজিডির চাল তুলে উপকারভোগীরা তা কম দামে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার পাঁচটি  ইউনিয়নের প্রতিটিতেই ভিজিডির চাল কেনাবেচা হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে দুটি ইউনিয়ন থেকে ভিজিডির ৬৮ বস্তা চাল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ।
 
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত ২৪ অক্টোবর রুকিন্দীপুর ইউপিতে বিতরণ করা ভিজিডির ২৩ বস্তা চাল আটক করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর সোনামুখী ইউপিতে বিতরণ করা ভিজিডির ৪৫ বস্তা চাল জাফরপুর বাজারের এক ব্যবসায়ীর গুদাম ঘর থেকে জব্দ করা হয়। ওই ঘটনায় সরকারিভাবে বিনা মূল্যে বিতরণ করা চাল বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধে ধান-চাল ব্যবসায়ী বিকাশ চন্দ্র মন্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই দুটি ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় পৃথক দুটি মামলা করেছে।
 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই উপজেলার বেশির ভাগ উপকার ভোগীই ভিজিডি কার্যক্রমের আওতায় দেওয়া চালের ভাত খান না। তাঁরা চাল তুলে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন। যেসব উপকারভোগী চাল বিক্রি করছেন, তাঁদের অধিকাংশই দুঃস্থ নন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকার দলীয় স্থানীয় নেতা-কর্মীরা ভোট ধরে রাখতে এসব মানুষের মাঝে ভিজিডির কার্ড বিতরণ করেছেন। এ ছাড়া ভিজিডির চাল বিতরণ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টদের তদারকিরও যথেষ্ট অভাব রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের পদধারী স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ভিজিডির চাল কেনাবেচা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত।
 
সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদেরও এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সখ্য রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সিন্ডিকেটের সদস্যরা ভিজিডি সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে কম দামে চাল কিনে সেই চাল চাতাল ও মিল মালিকদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন ইউপি চেয়ারম্যান বলেন,  ভিজিডি, ভিজিএফ যে বরাদ্দই আসে, সেখানে দলীয় নেতা-কর্মীদের নামে উপকার ভোগীদের জন্য কোঠা রাখতে হয়। তাঁদের পক্ষে সব সুবিধাভোগীর তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয় না। তখন ভিজিডির তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
গোপীনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ জোয়ারদার বলেন,  আমাদের অগোচরে বেশির ভাগ উপকার ভোগীই চাল বিক্রি করে দিচ্ছেন। আমরা উপকার-ভোগীদের চাল বিক্রি না করতে সতর্ক করছি। কিন্তু লাভ হচ্ছে না।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রিতা রানী পাল বলেন,  জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তালিকা ধরে প্রত্যেক উপকার-ভোগীর তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। কোনো জনপ্রতিনিধির দেওয়া তালিকায় বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া না গেলে সেটি অনুমোদন দিয়ে দেওয়া হয়।
উপজেলা ভিজিডি কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম মো. শাহনেওয়াজ বলেন, ভিজিএফ উপকার ভোগীরা চাল তুলে বিক্রি করে দিচ্ছেন বলে তিনিও শুনেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
 
জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক আব্দুর রহিম বলেন, উপকার ভোগীরা চাল বিক্রি করতে পারবেন না। কেউ চাল কেনাবেচা করলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/এমআর/আরএ