রিয়াল মাদ্রিদ যখন আরো একটি বড় জয়ের আশায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বে লেগিয়া ওয়ারশোর মাঠে আতিথ্য নিতে যাচ্ছে কোচ হিসেবে তখন দারুণ এক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন কোচ জিনেদিন জিদান। খেলাটির মধ্য দিয়ে কিংবদন্তি এই ফুটবলার রিয়ালের কোচ হিসেবে শততম ম্যাচে দায়িত্ব পালনের মাইলফলক স্পর্শ করবেন। আর বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা ১২তম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পথে এগিয়ে যাবে আরো এক ধাপ। নিশ্চিত করবে নক-আউট পর্ব।
জিদান তার ২৫ বছরের ফুটবল ক্যারিয়ারে সাফল্যের সব চূড়াই জয় করে ফেলেছেন। খেলোয়াড় হিসেবে ফ্রান্সের হয়ে ১৯৯৮ সালে জিতেছেন বিশ্বকাপ। ব্রাজিলের বিপক্ষে ফাইনালে হেড দিয়ে করা তার দারুণ দুটি গোল এখনো স্মরণীয় হয়ে আছে। জিদান ক্লাবের হয়ে ২০০২ সালে জেতেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। ওইবার বায়ার লেভারকুসেনকে ২-১ গোলে হারিয়ে রিয়ালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ে বড় অবদান ছিল জিদানের। খেলাটিতে ভলি থেকে দারুণ এক গোল করেছিলেন এই ফরাসি স্ট্রাইকার।
খেলোয়াড় হিসেবে দ্যুতি ছড়ানোর পর কোচ হিসেবেও সাফল্যের পথ ধরেই হাঁটছেন জিদান। ২০১৪ সালে রিয়াল মাদ্রিদ ক্যাসিলায় দায়িত্ব পালনের মধ্যদিয়ে কোচিং জগতে তিনি নাম লেখালেও এরই মধ্যে তারকা দ্যুতি ছড়িয়েছেন তিনি। গত মৌসুমে রিয়ালকে জিতিয়েছেন ১১তম চ্যাম্পিয়ন্সলিগ শিরোপা। তার তত্ত্বাবধানে চলতি মৌসুমেও দারুণভাবে এগিয়ে চলছে রিয়াল। এখন পর্যন্ত লা লিগার পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে মাদ্রিদ শহরের দলটি।
রিয়ালেই জিদানের কোচিংয়ের হাতেখড়ি হয়। প্রথমে ক্লাবটির দ্বিতীয় সারির দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর মূল দলে দায়িত্ব পালন করেন কার্লো অ্যানচেলত্তির সহযোগী হিসেবে। এই সময়ে পর্তুগালের লিসবনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে লা ডেসিমা ঘরে তোলে রিয়াল।
কোচ রাফায়েল বেনিতেজের তত্ত্বাবধানে রিয়াল যখন ব্যর্থতার পথ ধরে হাঁটছিল, ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে দলটির প্রধান কোচের দায়িত্বে অবতীর্ণ হন জিদান। আর তার হাত ধরেই যেন বদলে গেল রিয়ালের পথ চলা। প্রথম মৌসুমেই দলকে এনে দেন ১১তম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা। যদিও এই সাফল্যের পথে বন্ধুর পথ অতিক্রম করতে হয় রিয়ালকে। শেষ ষোলো পর্বে রোমাকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিলেও কোয়ার্টার ফাইনালে কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হয় জিদানের দলকে। প্রথম লেগে উলফসবার্গের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে যায় রিয়াল। এতে দমে যায়নি রোনালদো-বেলরা। ফিরতি লেগে ৩-০ গোলের জয় নিয়ে ৩-২ ব্যবধানে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে সফল দলটি। সেমিফাইনালে দুই লেগেই ম্যানচেস্টার সিটিকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে রিয়াল। আর নাটকীয় ফাইনালে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে টাইব্রেকারে ৫-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে তারা!
জিদানের তত্ত্বাবধানে এরই মধ্যে ৯৯টি ম্যাচ খেলে ফেলেছে রিয়াল। এর মধ্যে সাফল্যই বেশি। নতুন কোচের তত্ত্বাবধানে ৫৮টি খেলায় জয় পেয়েছে রিয়াল। ড্র হয়েছে ২৫টি খেলা। হার মানতে হয়েছে ১৬টি লড়াইয়ে। ক্লাবটি এখন সব ধরনের প্রতিযোগিতায় টানা ২৬টি ম্যাচে অপরাজিত আছে। এমন অবস্থায় লেগিয়া ওয়ারশোর বিপক্ষে জয় পেলে কোচ জিদানের সেঞ্চুরিটা কেবল আলোকিতই হবে না, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোও নিশ্চিত করবে রিয়াল।
শেষ ষোল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘জি’ গ্রুপের দল লেস্টার সিটি খেলতে যাবে ডেনমার্কের ক্লাব কোভেনহ্যাভনের মাঠে। একই লক্ষ্যে ‘এইচ’ গ্রুপে জুভেন্টাস মুখোমুখি হবে অলিম্পিয়াকোসের সঙ্গে। ‘এফ’ গ্রুপে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড খেলবে পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষে। মার্কা নিউজ
ইত্তেফাক/এমএইচ
