ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। শুক্রবার দলের একটি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল নাসিরনগর গৌর মন্দির, দত্তবাড়ি মন্দির, কালিবাড়ি মন্দির, জগন্নাথ মন্দিরসহ বিভিন্ন বাড়িঘর পরিদর্শন করেছে।
এদিকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নাসিরনগরে হিন্দু সমপ্রদায়ের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ‘অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিশেষ মহলের হাত রয়েছে। তবে সরকার জড়িত কি না সেটা তদন্ত ছাড়া বলা যাবে না।’ রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে স্বেচ্ছাসেবক দলের নবগঠিত কমিটি নিয়ে জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি দল নাসিরনগর গৌর মন্দির, দত্তবাড়ি মন্দির, কালিবাড়ি মন্দির, জগন্নাথ মন্দিরসহ বিভিন্ন বাড়িঘর পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বিএনপির উপদেষ্টা সৈয়দ একে একরামুজ্জামান সুকন, ভাইস চেয়ারম্যান গৌতম চক্রবর্তী,যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিষ্টার মাহাবুবউদ্দিন খোকন, উকিল আবদুস সাত্তার, সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যরিস্টার রুমিন ফারহানা, কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক লেঃ কনের্ল অবঃ আনোয়ারুল আজিম,সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক একে আওয়াল খান, কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বড়ুয়া,সঞ্জিব চৌধুরী, ফাতেমা মুন্নি প্রমূখ। এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান কচি, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি,যুবদল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শনকালে ক্ষতিগ্রস্থ হিন্দু পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলেন। পরে বিএনপির স্থানীয় নিজস্ব কার্যালয় সুকন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে আজ যদি গণতন্ত্র থাকত তাহলে এমন ঘটনা ঘটত না । এই পরিস্থিতি দেখে আমরা দুঃখিত, বিস্মিত, মর্মাহত। অপরাধী যে দলেরই হোক, সরকার যেন বিচার করে- এই আহ্বান জানাই। স্থানীয় প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, পুলিশ এখন বিরোধী দলকে দমন-নীপিড়নে ব্যস্ত। তারা পেশাদারিত্ব থেকে দূরে সরে গেছে। আমাদের আশা- তারা পেশাদারিত্বে ফিরবে।কিছুদিনের মধ্যে সৈয়দ একে একরামুজ্জামানের নেতৃত্বে ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহ করা হবে বলে জানান তিনি। সমপ্রীতির স্থান নাসিরনগরে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে রহস্যজনক হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, কারও বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগ নেই। ক্ষতিগ্রস্তদের কথা শুনে মনে হয়েছে, রাজনৈতিক কোন্দলের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে।এই ব্রিফিং এর আগে তিনি গৌর মন্দির প্রাঙ্গণেও সংক্ষেপে বক্তৃতা প্রদান করেন।
উল্লেখ্য,ফেসবুকে কাবা শরীফের ওপর হিন্দু দেবতার আপত্তিকর ছবি পোস্ট করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে শনিবার উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের জগন্নাথ দাসের ছেলে রসরাজ দাসকে (৩০) আটক করে এলাকাবাসি ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় রাতেই রসরাজের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা করা হয়। এ ঘটনার জের ধরে রবিবার সকালে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের পাশাপাশি একদল লোক বের হয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘর ও মন্দিরে হামলা ও ভাংচুর করে। এসময় হামলাকারীরা ব্যাপক লুটপাটও করে। তাদের হামলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বেশ কয়েক জন আহত হয়।
ইত্তেফাক/এএম।
