রাজধানীর কাফরুলের একটি বাসা থেকে বিপুল পরিমান মানুষের মাথার খুলি ও হাড়গোড় উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাফরুল থানার ইটখোলার ১৮৩/১ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করে।
এ সময় নুরুজ্জামান ওরফে কামরুজ্জামান নামে ওই ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত কামরুজ্জামান ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আহমেদ জানান, কাফরুল থানার ইটখোলার ১৮৩/১ নম্বর বাড়ির মালিক ইলিয়াস সাইফুল্লাহ। তিনি তার বাড়ির দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়ার সর্ম্পকে সন্দেহপ্রসন করে থানা পুলিশকে জানায়। এরপর বাড়িওয়ালার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ওই বাসায় খোঁজখবর নিতে গেলে বাসার ভেতরে কার্টুনভর্তি মানব কঙ্কাল পায়। এ ঘটনায় ভাড়াটিয়া নুরুজ্জামান ওরফে কামরুজ্জামানকে আটক করেছে পুলিশ।
বাড়িটির মালিক ইলিয়াস সাইফুল্লা জানান, গতমাসে নুরুজ্জামান (২৬) নামে এক ব্যক্তি চিকিত্সক পরিচয় দিয়ে বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন। ওই বাড়ির তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটের একজন ব্যাংক কর্মকর্তা ভাড়া থাকেন। শনিবার দুপুরের দিকে তৃতীয় তলার ওই ব্যাংক কর্মকর্তা বিকট পঁচা গন্ধ পেয়ে দ্বিতীয় তলার দরজায় নক করেন। তবে ভাড়াটিয়া নুরুজ্জামান দরজা খুলতে দেরি করেন। কিছুক্ষণ পর দরজা খুললে ওই ব্যাংক কর্মকর্তা সেখানে কার্টনভর্তি কঙ্কাল দেখতে পান। এরপর ওই ব্যাংক কর্মকর্তা ঘটনাটি তাকে জানান। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি থানায় জানান। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করেন। বাড়িওয়ালা আরও বলেন, নুরুজ্জামানের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ। তিনি মিডফোর্টের চিকিত্সক পরিচয় দিয়ে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন। তার সঙ্গে আরও দুজন কর্মচারীও ছিল। তবে তাদের এখন পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশের ভাড়াটিয়া তথ্য ফরমে তার এসব তথ্য দেওয়া আছে বলে তিনি জানান।
এদিকে কাফরুল পুলিশ জানায়, কামরুজ্জামান ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। কামরুজ্জামান সর্ম্পকে বিস্তারিত তথ্য নেয়ার চেস্টা করা হচ্ছে। তবে কি কারনে এই কঙ্কাল তিনি বাসায় রেখেছেন সে ব্যাপারে কামরুজ্জামান কোন নির্দিষ্ট কিছু বলতে পারেনি। পুলিশ ধারনা করছে কামরুজ্জামান লেখাপড়ার আড়ালে মানব কঙ্কালের অবৈধ ব্যবসা করেন।
ইত্তেফাক/এএম।
