শ্রদ্ধায় সিক্ত এম আর খান

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৬, ০২:১১
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধায় সিক্ত হলেন বাংলাদেশে শিশু চিকিত্সার পথিকৃত্ জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান।গতকাল রবিবার সকালে তাঁর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আনা হলে কফিনে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ সময়ে শহীদ মিনারে দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তি ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে। সেখানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে তাঁকে সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। এদিকে, গতকাল রাতে এম আর খানের মরদেহ যশোরে নেওয়া হয়। আজ সকালে সাতক্ষীরার রসুলপুরে তাঁর গ্রামের বাড়িতে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে। এম আর খান ৮৯ বছর বয়সে গত শনিবার বিকালে রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। এদিকে, গতকাল তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বাণী দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
 
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খানকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমিতির সভাপতি আবুল বারকাত, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, মিরপুর ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথের পরিচালক ডা. এখলাসুর রহমান, বাংলা একাডেমির পরিচালক শাহিদা খাতুন, স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদের মহাসচিব ইকবাল আর্সলান প্রমুখ।
 
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, দেশকে তিনি যা দিয়েছেন, তার তুলনা নেই। তিনি শুধু একজন মহান চিকিত্সকই ছিলেন না, তিনি একজন মহান সমাজসেবকও ছিলেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও একুশে পদক পাওয়া এই ব্যক্তিত্বকে হারিয়ে আমরা সবাই শোকাহত। চিকিত্সাবিজ্ঞানে তাঁর যে অবদান, যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষ তা স্মরণ করবে।
 
এ ছাড়া সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষক সমিতি, ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট, নিউরোস্পাইন সোসাইটি অব বাংলাদেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতক্ষীরা জেলা কল্যাণ সমিতি, কুষ্টিয়ার মানবশক্তি উন্নয়ন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও চিকিত্সকদের সংগঠনও শেষবারের মতো এম আর খানকে শ্রদ্ধা জানায়।
 
এর আগে সকাল সাড়ে ১০ টায় এম আর খানের প্রথম নামাজে জানাজা সেন্ট্রাল হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এম আর খানের দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা ও চিকিত্সকেরা তাঁর মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় তাঁর মরদেহ নিয়ে আসা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে। সেখানে তাঁর দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক, সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাস্থ্য সচিব সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 
ড. এম আর খানের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে জাতীয় পর্যায়ের শিশু স্বাস্থ্য  ফাউন্ডেশন, শিশুস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতাল, যশোর শিশু হাসপাতাল, সাতক্ষীরা ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার, রসুলপর উচ্চ বিদ্যালয়, উত্তরা উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা সেন্ট্রাল হাসপাতাল, ধানমন্ডির নিবেদিতা নার্সিং হোমসহ বহু প্রতিষ্ঠান।
 
 এদিকে, তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে জেলার বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। শোক জানিয়েছে- সাতক্ষীরা জেলার আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাসদ, সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি,সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব, ঢাকাস্থ সাতক্ষীরা জেলা জন সমিতি, ভোমরা সি এন্ড এফ এসোসিয়েশন, ল’ স্টুডেন্টস ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠন।
 
ইত্তেফাক/এএন