পরিচয় মিলেছে নেপালি সবজিওয়ালির

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৬, ১৬:২৮
পাকিস্তানের ইসলামাবাদের নীল চোখের চা-ওয়ালা আরশাদ খানের পরে সোশ্যাল মিডিয়া প্রেমে পড়েছিল নেপালের সুন্দরী সবজিওয়ালির। সপ্তাহখানেক অজ্ঞাত থাকার পরে পরিচয় মিলেছে সেই ‘তরকারিওয়ালি’র।
 
১৮ বছর বয়সী সেই তরুণীর নাম কুসুম শ্রেষ্ঠা। রূপচন্দ্র মহাজন নামের একজন ফটোগ্রাফারের তোলা ছবি #তরকারিওয়ালি ও #সবজিওয়ালি’ হ্যাশট্যাগে ট্রেন্ডিং হতে থাকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার সৌন্দর্য ও কমনীয়তার প্রশংসা করতে থাকে ব্যবহারকারীরা।
 
সেই ছবির সুন্দরী শ্রেষ্ঠার নেপালের গোর্খার বাগলিং এলাকার কৃষি পরিবারের সদস্য। চিটওয়ানের একটি কলেজের শিক্ষার্থী শ্রেষ্ঠা ছুটির দিনগুলোতে সবজি বিক্রি করে পরিবারকে সহায়তা করেন। ছুটির দিনে সবজি বিক্রি করার সময় তার এই ছবিগুলো তোলা হয়।
 
পুরো সোশ্যাল মিডিয়ায় শ্রেষ্ঠা ভাইরাল হয়ে গেলেও নিজের এই খ্যাতির খবর জানতে পারেন এক বন্ধুর কাছ থেকে। তিনি বলেন, প্রথমে আমার এক বন্ধু জিজ্ঞেস করে যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যাওয়া ওই মেয়েটি আমি কী না? কিন্তু আমি এই বিষয়ে কিছুই জানতাম না। তখন সে আমাকে ছবিগুলো পাঠানোর পরে আমি সেগুলো দেখি। আমি ওইদিন আমার মা বাবাকে সহায়তা করতে সবজি বিক্রি করতে গিয়েছিলাম। সবজি বিক্রি করতে যাওয়ার পথে ফটোগ্রাফার রূপচন্দ্র আমার ছবি তুলে। তবে আমি জানতাম না যে আমার ছবি তোলা হচ্ছিল।
 
সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে পাওয়া খ্যাতিতে মডেল হয়ে গেছেন পাকিস্তানের চা ওয়ালা আরশাদ খান। নতুন খ্যাতিতে উচ্ছ্বসিত কুসুম জানিয়েছেন তিনিও সুযোগ পেলে মডেলিং করবেন। কন্যার হঠাৎ পাওয়া খ্যাতিতে রীতিমতো বিস্মিত কুসুমের বাবা নারায়ণ শ্রেষ্ঠা বলেন, আমি শুনেছি যে সে (কুসুম) ইন্টারনেটে অনেক জনপ্রিয় হয়ে গেছে। কে ভেবেছিল সে কোনোদিন এত জনপ্রিয়তা পাবে? আমার মেয়ে সবসময় খুব লাজুক , খুব কথায় নিজের কাজ সারে সে।
 
IMG0
 
কুসুমের বাবা জানান, সে কলেজে ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে অধ্যয়ন করলেও তার লক্ষ্য নার্স হিসেবে ক্যারিয়ার করা। নারায়ণ বলেন, ও আমার একমাত্র মেয়ে। আমার সামর্থ্যানুযায়ী সর্বোচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থাই আমি করবো। কিন্তু আমার অর্থনৈতিক অবস্থার কথাও চিন্তা করতে হবে। সে নার্সিং কলেজে ভর্তি হতে চাইলেও আমি সেটি করতে পারিনি। বিবিসি।
 
ইত্তেফাক/এসএসএ