ডেমোক্র্যাট ন্যাশনাল কমিটি এক ই-মেইলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ ব্যবস্থায় রাশিয়ার সমর্থনে সাইবার হামলার আশঙ্কা করছে। এ সংক্রান্ত খবর ইতিমধ্যেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ অবস্থায় রাশিয়া তথা প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমার পুতিনস্বার্থ কী এবং যুক্তরাষ্ট্রে করণীয় নিয়ে গত ৬ নভেম্বর মার্কিন প্রভাবশালী ম্যাগাজিন দ্যা আটলান্টিক এক যৌথ আলাপধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গীকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পত্রিকাটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে অনুমোদন দিয়েছে। ১৮৫৭ সাল থেকে প্রকাশিত পত্রিকাটি এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো কোনো প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে অনুমোদন দিল। দ্যা আটলান্টিকে প্রকাশিত আধুনিক রাশিয়া বিষয়ক অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও লেখক পিটার পোমেরাসাটসেভ এবং আরকেডে ওস্তারভস্কির যৌথ আলাপে তারা বলেছেন— পুতিনের লক্ষ্য সম্পর্কে তারা কী জানেন এবং জানেন না। তবে তারা মনে করেন, যাই কিছু হোক— রক্তপাতহীনভাবেই হোক।
আলাপের এক পর্যায়ে ওস্তারভস্কি বলেন, বর্তমান রাশিয়া সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকেও খুব ভয়ঙ্কর। তিনি আরো বলেছেন, রাশিয়া আসলে সাইবার হামলার পরিকল্পনা করছে কিনা সে বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে। রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমের যে আদর্শিক বিরোধ সে বিষয়ে আমাদের ভুল ধারণা রয়েছে। আসলে পুতিন দেখানোর চেষ্টা করছেন রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমের আদতে কোনো পার্থক্য নেই। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন প্রসঙ্গে পুতিনের দৃষ্টিকোণ বিচার করে ওস্তারভস্কি বলেন, আমি মনে করি না পুতিন সত্যিই মনে করেন ট্রাম্প নির্বাচনে জয়ী হতে পারবেন। আবার তিনি এটাও মনে করেন না কোনো কোনো বিচারে হিলারিও যথেষ্ট যোগ্য। প্রতিনিয়ত পুতিনের বিরোধ অন্য কারো সঙ্গে। যদিও অল্প ব্যবধানেও হিলারী জয়ী হন এবং তার রণকৌশল যদি সীমাবদ্ধ হয়ে যায়— তাহলে পুতিন হয়তো খুশিই হবেন। তাই এই মুহূর্তে বলা যায়, তিনি আসলে গোটা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের পদ্ধতির বিরুদ্ধে লড়ছেন।
হিলারি জয়ী হলে পুতিনকে প্রত্যাখ্যান করবেন কিনা— পিটারের এমন জিজ্ঞাসার জবাবে ওস্তারভস্কি বলেন, ইউএস মডেলকে কম আকর্ষণীয় করে তুলতে চান পুতিন। এ নির্বাচনটি তাকে এ ক্ষেত্রে চমত্কার উপায় হিসেবে সাহায্য করছে। তিনি আরো বলেন, পশ্চিমের পারমাণবিক যুদ্ধে রাশিয়ার আত্মরক্ষার বিষয়ে তিনি অনেক মনোযোগী। বরং পশ্চিমের যে কোনো বিষয়ে প্রথম পদক্ষেপ নেয়ার প্রবণতাটির অবসান চান পুতিন।
ইত্তেফাক/এএন
