ইতিহাসের বাঁকে হিলারি!

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৬, ১৭:১১
ভোট শুরুর আগের দিন, অর্থাৎ স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর থেকে ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের জনপ্রিয়তা জাদুকরি গতিতে বাড়তে থাকে। সন্ধ্যায় হিলারির জয়ের সম্ভাবনা বেড়ে ৭৯ শতাংশের ঘরে ছুঁইছুঁই করছিল। 
 
রিপাবলিকান ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যবধান যেখানে ছিল ৩ থেকে ৫ পয়েন্ট, সেখানে ব্যবধানটা নেমে আসে ২৯ পয়েন্টে। আর ভোটের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে নিউইয়র্ক টাইমস হিলারির জয়ের সম্ভাবনাকে ৮৪ শতাংশে নিয়ে যায়। 
 
এদিকে ফাইভথার্টিএইট ডটকম তাদের জরিপে বলছে, হিলারির প্রেসিডেন্ট হবার সম্ভাবনা ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ। আর ট্রাম্পের সম্ভাবনা মাত্র ২৮ শতাংশ। ইলেকটোরাল ভোটেও হিলারি ব্যাপকভাবে এগিয়ে রয়েছেন। হিলারি ৩০২টি এবং ট্রাম্প ২৩৪টি ইলেকটোরাল ভোট পেতে পারেন বলে ফাইভথার্টিএইটের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। তবে পপুলার ভোটে হিলারি ও ট্রাম্পের ব্যবধানটা আগের মতই রয়ে গেছে। এক্ষেত্রে হিলারি পেতে পারেন ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট এবং ট্রাম্প পেতে পারেন ৪৫ শতাংশ। 
 
মার্কিন সিনেটেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। নির্বাচনে সিনেটের ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ ডেমোক্রেটদের দখলে যেতে পারে । এদিক থেকে রিপাবলিকানদের দখলে যেতে পারে ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ। 
 
বিজয়ী হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে হিলারি ক্লিনটনই হবেন প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট এবং ডেমোক্রেটিক পার্টি পর পর তিন বার ক্ষমতায় আসার রেকর্ড গড়বে। 
 
এছাড়া আরো অনেক রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন হিলারি ক্লিনটন। কারণ তিনিই একমাত্র নারী, যিনি মার্কিন ফার্স্টলেডি হিসাবে আট বছর হোয়াইট হাউজে কাটিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রাইমারিতে ওবামার হেরে যাবার পরও ওবামা প্রশাসনে চার বছর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে হিলারি ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট হলে বিল ক্লিনটনও সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসাবে রেকর্ড করতে যাচ্ছেন। কারণ তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং প্রেসিডেন্টের স্বামী হিসাবে আবারো হোয়াইট হাউজে ফিরছেন।
 
বিভিন্ন রাজ্যের গভর্নরদের স্বামীকে ‘ফার্স্ট জেন্টলম্যান’ সম্বোধন করা হলেও বিল ক্লিনটন পরিচিতি পাবেন সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসাবে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ অনুযায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্টের আট ধাপ পরেই সাবেক প্রেসিডেন্টের অবস্থান। 
 
এদিকে ডেমোক্রেটদের ঘাঁটি হলেও নিউইয়র্কে হিলারির সমর্থকেরা সোমবার সারা দিনই একপ্রকার আনন্দে উসবে মেতেছিল। বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যামাইকায় বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে বসেছিল ফোন ব্যাংকিং। মার্কিন নির্বাচনে ফোন ব্যাংকিং প্রথা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্যবস্থায় ভোটারদের কাছে ফোন করে নির্বাচনে ভোটদানের ব্যাপারে আহ্বান জানানো হয়। নিউইয়র্কের কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট-৬ এর কংগ্রেমওম্যান প্রার্থী ডেমোক্রেট গ্রেস মেং এবং স্টেট এসেম্বলিম্যান ডেভিড ওয়েপ্রিন এই কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সমর্থদের উৎসাহ যোগান। 
 
মার্কিন নির্বাচনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা চোখে পড়ার মত। বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে গভীর রাত পর্যন্ত সরব দেখা গেছে তাদের। নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শিরীন আক্তার দীবা জানান, এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঐতিহাসিক। আর এ কারণে তিনি তার পছন্দের প্রার্থীকেই ভোট দেবেন এবং তার প্রার্থীই জয়লাভ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
  
এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় জ্যামাইকার হিলসাইড এভিনিউতে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ও কংগ্রেসওম্যান প্রার্থী গ্রেস মেংয়ের সমর্থনে এক র‌্যালির আয়োজন করে বাংলাদেশি আমেরিকান পলিটিকাল অ্যাকশন কমিটি। বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি আমেরিকান নারী ও পুরুষ র‌্যালিতে অংশ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং র‌্যালিতে যোগ দিয়ে সবাইকে ভোট প্রদানের আহ্বান জানান। তিনি এসময় বলেন, হিলারি ক্লিনটনই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার বলেন, এটা আমাদের আগাম বিজয় র‌্যালি। নির্বাচনে আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত।
 
ত্তেফাক/এসএসএ