এক সুপার পাওয়ার দেশে যখন নির্বাচন হচ্ছে তখন অন্যরা সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। নির্বাচনকে ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো নানা রকম প্রতিক্রিয়াও দেখাচ্ছে। কিন্তু বিশ্বের প্রায় সব দেশই যখন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে সমর্থন দিচ্ছে তখন একমাত্র দেশ রাশিয়ার অবস্থান ভিন্ন। তারা এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করছে।
প্রতিবেশি দেশ ভারত বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক দিন দিন ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। দ্য হিন্দুস্তান টাইমসের এডিটর-ইন-চিফ ববি ঘোষ সিএনএন’কে বলেন, মার্কিন নির্বাচন সত্যিই অনেক বড় বিষয়। এবারের নির্বাচন আগের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে বেশি আগ্রহ তৈরি করেছে। ভারতীয় ভোটারদের কাছে টানার জন্য ট্রাম্প যে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন তাতে অনেকে মুগ্ধ হলেও অনেকের মাঝে এক ধরনের অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে।
স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নির্বাচনকে এতটা গুরুত্ব দিয়ে এর আগে ভারত-পাকিস্তান কখনো দেখেনি। ৯০ দশকের মাঝামাঝি থেকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক শুরুর জন্য হিলারিকে দিল্লি সস্নেহে স্মরণ করে। তারা মনে করে, দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির ধারা হিলারির সময় অব্যাহত থাকবে।
চীন বরাবরই তাদের যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান ধরে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের কেলেঙ্কারি ও বিবাদকে সামনে আনার চেষ্টা করেছে সব সময়। সম্প্রতি চীনের গ্লোবাল টাইমস পত্রিকার এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, এখন পছন্দ মার্কিন ভোটারদের। রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মার্কিনিরা দেখছেন, এক অবিশ্বস্ত উন্মাদ হিসেবে। আর হিলারির ই-মেইল কেলেঙ্কারির পর তাকে বিশ্বাস করা কঠিন। আরেকটা সংখ্যায় ট্রাম্পকে তুলনা করে বলা হয়েছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে মুসোলিনি এবং হিটলারের নতুন করে আবির্ভাব হয়েছে। আর জলবায়ু ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান একদমই পছন্দ না চীনাদের।
রাশিয়ার অবস্থান ট্রাম্পের পক্ষেই। ইতিমধ্যে ইতিমধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। যিনি রিপাবলিকানদের বর্ণিল বলে প্রশংসা করেছেন। এর পেছনে কারণও আছে। রাশিয়ায় ব্যবসার ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে ট্রাম্পের। এছাড়া পুতিনের সমর্থক গোষ্ঠীর সঙ্গেও সুসম্পর্ক রয়েছে ট্রাম্পের।
তবে ভিন্ন অবস্থান ব্রিটেনের। ইতিমধ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন। ব্রিটিশ নেতৃত্ব একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে যে, হিলারি ক্লিনটন দুই দেশের বিশেষ সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। আর ট্রাম্প এখন ক্রেমলিনের সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠ হচ্ছেন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোয়া ওল্যাঁদ বলেছেন, ট্রাম্পের জয়ে ইউরোপ লাভবান হবে এমনটা খুব কম লোকই মনে করে। বরং তিনি আমাদের দেখে অবজ্ঞায় করবেন। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক-ওয়াল্টার স্টেইনমিয়ার ইতিমধ্যে ট্রাম্পের মুসলিম বিরোধী বক্তব্যের জন্য তাকে ‘হিংসার প্রচারক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
আর লাতিন আমেরিকানরা ট্রাম্পকে নিয়ে খুবই বিচলিত। তারা মনে করে, ট্রাম্প জয়ী হলে লাতিনরা সত্যিকার অর্থেই বিপদে পড়বে।
ইত্তেফাক/ইউবি
