সে বছর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট শপথ নিয়েছিলেন মার্চ মাসে। কিন্তু তাঁর বয়স ৩৫ বছর পূর্ণ হতে
আরও কয়েক মাস বাকি ছিল। ১৮৭৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি আইনের এই শর্ত পূরণ করতে
পেরেছিলেন। কিন্তু তার আগেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন হয়ে যায়। এ কারণে শেষ পর্যন্ত আর
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে তাঁর লড়াই করা হয়ে উঠেনি। যদিও এই পদের ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ
হওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি মাঠে নেমে পড়েছিলেন। তিনি ভিক্টোরিয়া উডহাল।
আনুষ্ঠানিক প্রার্থিতার সুযোগ না পেলেও ক্যালিফোর্নিয়ার এই তরুনীকেই বিবেচনা করা হয় মার্কিন
মুল্লুকের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। তিনি মনোনয়ন চেয়েছিলেন তৎকালীন ইকুয়্যাল রাইটস পার্টি
থেকে।
ভিক্টোরিয়া উডহালের চেষ্টার প্রায় ২১ বছর পর প্রার্থিতা লাভের ক্ষেত্রে সফল হয়েছিলেন নিউ
ইয়র্কের এক নারী বেলভা এ্যান লকউড। ১৮৮৪ সালে তিনি ইকুয়্যাল রাইটস পার্টি থেকে
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদের জন্য মনোনয়ন লাভ করেছিলেন। পরেরবার ১৮৮৮ সালেও তিনি
একই দলের মনোনয়ন পান। কিন্তু বলাবাহুল্য যে, ছোট দলের প্রার্থী হওয়ার কারণে চুড়ান্ত
সাফল্যের দেখা তিনি পাননি। বস্তুত হিলার ক্লিনটনের আগে কোনো মহিলা কখনও
আমেরিকার প্রধান দুই রাজনৈতিক দল থেকে প্রেসিডেন্ট পদে লড়াইয়ের মনোনয়ন পাননি।
সেইদিক থেকে হিলারী ইতিমধ্যেই নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। এখন অপেক্ষা আরও বড়
ইতিহাসের।
বেলভা অ্যান্ড লকউডের পর টানা ৫২ বছর আর কোনো নারী কখনও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট
হওয়ার চেষ্টা করেননি। এরপর ১৯৪০ সালে গ্রেসি এ্যালেন নামের আরেক মহিলা
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদের জন্য সারপ্রাইজ পার্টি নামের একটি দল থেকে প্রার্থী হন। এর ১২
বছর পর ১৯৫২ সালে একসঙ্গে তিনজন নারী আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদের লড়াইয়ে এক ইতিহাস
সৃষ্টি করেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধারেকাছে না যেতে পারলেও তাদের নাম ইতিহাসে জায়গা পেয়েছে।
তারা হলেন ওয়াশিংটন পিস পার্টির এ্যালেন লিনা ডব্লিউ জেনসেন, আমেরিকান পার্টির মেরি
কেনেরি এবং আমেরিকান ওমেনস পার্টির এ্যাগনেস ওয়াটারস। ১৯৬৮ সালে কমিউনিস্ট পার্টি
থেকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রার্থী হয়েছিলেন শ্যারলিন মিচেল। ১৯৭২ সালে
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য সোশ্যালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে আমেরিকার
প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য প্রাইমারিতে লড়েছিলেন দুই নারী লিন্ডা জেনেস ও ইভলিন রিড। ১৯৭৬
সালে পিপলস পার্টি থেকে লড়েছিলেন মার্গারেট রাইট নামের আরেক নারী। ১৯৮০ সালের
নির্বাচনে আবার তিন নারী আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হাজির হয়েছিলেন। তারা ছিলেন রাইট
টু লাইফ পার্টিও এ্যালেন ম্যাক করম্যাক, পিস অ্যান্ড ফ্রিডম পার্টির মাউরিন স্মিথ ও ওয়ার্কর্স ওয়ার্ল্ড
পার্টির ডিরড গ্রিসওল্ড।
১৯৮৪ ও ’৮৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও নেমেছিলেন ছিলেন দু’জন করে নারী প্রার্থী। এরমধ্যে ’৮৪ সালের দু’জন ছিলেন সোনিয়া জনসন ও গ্যাব্রিয়েল হোমস এবং ’৮৮ সালে ছিলেন লেনোরা ফুলানি ও উইলা কেনোয়ার। ১৯৯২ ও ’৯৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াইয়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক যথাক্রমে ৪ জন ও ৫ জন নারী প্রার্থী অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এরমধ্যে লেনোরা ফুলানী ’৯২ সালে দ্বিতীয়বারের মতো প্রার্থী হন। বাকিরা ছিলেন হেলেন হিলইয়ার্ড, ইসাবেল মাস্টার্স, গ্লোরিয়া লা রিভা, মনিকা মুরহেড, মার্শা ফেইনল্যান্ড ও মেরি ক্যাল হলিস। এরমধ্যে গ্লোরিয়া লা রিভা এবারের নির্বাচনেও প্রার্থী। এরমধ্যে গ্লোরিয়া লা রিভা ও মনিকা মুরহেড আজকের নির্বাচনেও প্রার্থী এবং তাঁরা এরমধ্যে আরও অন্তত দু’টি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন।
এছাড়া শারলি চিশম ছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাইমারিতে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী
প্রার্থী। ১৯৭২ সালে তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন চেয়ে মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু শেষ
পর্যন্ত প্রাইমারিতে হেরে যাওয়ায় আর মূল নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি। এর আগে তিনি ১৯৬৮
সালে প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান নারী হিসাবে মার্কিন কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হন ডেমোক্রেটিক
প্রার্থী থেকে। সেই বিবেচনায় তিনি হিলারী ক্লিনটনের একজন যথার্থ পূর্বসূরী।
আজকের নির্বাচনে হিলারী ক্লিনটনের সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন নারী প্রার্থী রয়েছেন। এরমধ্য
উল্লেখযোগ্য হলেন গ্রিন পার্টির প্রার্থী ডা: জিল স্টেইন। বিভিন্ন জনমত জরিপের ফল অনুযায়ী এ
নির্বাচনে তাঁর জনসমর্থন রয়েছে অন্তত ২ শতাংশ। তিনি ২০১২ সালের নির্বাচনেও প্রার্থী
হয়েছিলেন।
ইত্তেফাক/এএন
