মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে যে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হতে পারে

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৬, ০১:০২
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ায় দেশটির পররাষ্ট্রনীতির ৫টি  গুরুত্বপূর্ণ  পরিবর্তন  হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই দিকগুলো হচ্ছে:
 
মুক্তবাণিজ্য :ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি তার বাণিজ্য নীতি অনুসরণ করেন তবে সেটি হবে গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টসহ বেশ কয়েকটি বাণিজ্য চুক্তি বর্জন করার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টকে বেকারত্বের একটি কারণ বলেছেন। তিনি এমনকি ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন থেকে বের হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
 
জলবায়ু পরিবর্তন :ট্রাম্প বলেছেন তিনি প্যারিস জলবায়ু পরিবর্তন চুক্তি বাদ করে দেবেন। ১৯৫টি দেশ ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করে। গ্লোবাল ওয়ার্মিং প্রোগ্রামেও অনুদান বন্ধ করে দেবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
 
সীমান্তে দেয়াল :অভিবাসন বিরোধী অনেক কড়া কড়া কথা বললেও ট্রাম্প নির্বাচনের আগ দিয়ে তার সুর অনেক নরম করে এনেছিলেন। তাই ক্ষমতায় বসার পর অভিবাসনের ব্যাপারে ট্রাম্প কতটা কঠোর থাকতে পারবেন তা নিয়ে সন্দেহ আছে। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ এবং ১ কোটি ১০ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বের করে দেয়ার কথা বলে ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছিলেন। পরবর্তীকালে সুর নরম করে তিনি বলেন, লাখ লাখ অপরাধীকে বের করে দেয়া হবে।
 
ন্যাটো :ট্রাম্প ন্যাটোকে সেকেলে বলে অভিহিত করে এর অনেক সদস্যকে অকৃতজ্ঞ বলেছেন। তিনি বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ফায়দা লুটছে। ট্রাম্প বলেছেন প্রয়োজনীয় অর্থ না পেলে ইউরোপ ও এশিয়ার মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা দিতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র।
 
মিত্ররা প্রয়োজনীয় টাকা না দিলে অনেক জায়গা থেকে মার্কিন বাহিনীকে প্রত্যাহার করবেন ট্রাম্প। ন্যাটোর দেশগুলো প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপির ২ ভাগ ব্যয় না করায় যুক্তরাষ্ট্রের বহুদিনের উদ্বেগই অনুরণিত হয়েছে ট্রাম্পের বক্তব্যে। অনেকে আশঙ্কা করেছেন এই সামরিক জোটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যত্ অবস্থান নিয়ে। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে গত ৬০ বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রেখেছে ন্যাটো সামরিক জোট।
 
রাশিয়া :ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন তিনি বিশ্বাস করেন  রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের  সাথে উত্তেজনা প্রশমিত করা সম্ভব হবে। তিনি পুতিনের সুদৃঢ় নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেছেন পুতিনের সাথে সখ্য গড়ায় তিনি আনন্দিত হবেন। আইএসের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সাথে একত্রে লড়াই করার ব্যাপারে খুব বেশি কিছু বলেননি ট্রাম্প। কিন্তু তিনি বুঝতে চাচ্ছেন পুতিনের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি রুশদের আস্থা অর্জন করতে পারবেন কিনা।
 

ইত্তেফাক/এএন